• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৮ বিকেল

প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে বাধ্য করা হলো ভুক্তভোগীকে

  • প্রকাশিত ০৭:৩৩ রাত জুলাই ৭, ২০১৯
নির্যাতন
প্রতীকী ছবি

কয়েকশ' লোকের উপস্থিতিতে নির্যাতিত কিশোরীর কাছে আপত্তিকর প্রশ্নের উত্তর আদায়ের চেষ্টা করেন মাতব্বররা

কুষ্টিয়ার খোকসায় সালিশি বৈঠকের নামে মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে তার ওপর হওয়া যৌন নির্যাতনের বর্ণনা প্রকাশ্যে বলতে বাধ্য করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত ১ জুলাই এই ঘটনা ঘটে বলে ইউএনবির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।  

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যৌন নির্যাতনকারীর পাশে প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তার মধ্যবয়সী মাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে নির্যাতিত কিশোরীর কাছে আপত্তিকর প্রশ্নের উত্তর আদায়ের চেষ্টা করেন উপস্থিত মাতব্বররা।

এদিকে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর পুলিশ নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী ও তার মাকে খুঁজে বের করে মামলা রেকর্ড করেছে। তবে সালিশকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ জুন উপজেলা সদরের থানাপাড়ার আমির আলীর ছেলে অন্তর প্রতিবেশী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৩) জোরপূর্বক পাট ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে। পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ঘটনার চার দিন পর গত ১ জুলাই গ্রাম্য মাতব্বররা গ্রামে সালিশি বৈঠকে বসে। বৈঠকে কয়েকশ' লোকের উপস্থিতিতে নির্যাতিত কিশোরীর কাছে আপত্তিকর প্রশ্নের উত্তর আদায়ের চেষ্টা করেন মাতব্বররা।

সালিশে অভিযুক্ত অন্তরকে চড়-থাপ্পর দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাও করা হয়। তবে, কিশোরীর পরিবার এমন বিচারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন মাতব্বররা। ভয়ে পরের দিন ঘরবাড়ি ফেলে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয় নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার।

এর মধ্যে প্রকাশ্যে সালিশি বৈঠকের ভিডিওটি ভাইরাল হলে পুলিশ নির্যাতিত কিশোরীর পরিবারকে ফিরিয়ে এনে বুধবার নারী নির্যাতনের মামলা নিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, "মামলাটি সবে হাতে পেয়েছি, বিষদ পর্যালোচনা করতে পারিনি। তবে অভিযুক্ত অন্তরকে ধরা হয়েছে। সে কিশোর হওয়ায় সেফ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।"