• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৪ বিকেল

খুলনায় জলাবদ্ধতার কারণ ৪৬০ দখলদার

  • প্রকাশিত ০৪:০৭ বিকেল জুলাই ৯, ২০১৯
খুলনা খাল
দখলের শিকার খুলনার নদী-খালগুলো ঢাকা ট্রিবিউন

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তৈরি করা প্রতিবেদন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের ৩টি উপজেলায় ময়ূর নদীসহ ২৬টি খালে ৪৬০ দখলদার ও ৩৮২টি অবৈধ স্থাপনা চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ভূমি, নদী ও খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করাসহ পানি চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দখলদারদের চিহ্নিত করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। এবিষয়ে সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরী ও তৎসংলগ্ন উপজেলাসমূহের পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ভূমি, নদী ও খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করাসহ পানি চলাচল নিশ্চিত করতে পৃথক ৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- টেকনিক্যাল কমিটি, বাস্তবায়ন ও পুনরুদ্ধার কমিটি এবং বাস্তবায়ন ও পুনরুদ্ধার উপদেষ্টা কমিটি।

টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও তৎসংলগ্ন ৩টি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ময়ূর নদীসহ ২৬টি খাল-নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রণয়নে চারজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সার্ভেয়ার অথবা প্রতিনিধির সমন্বয়ে ৬টি সাব-টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়।

সাব-টেকনিক্যাল কমিটিগুলো সিএস ম্যাপ অনুসরণ করে চার মাস কাজ করে মহানগরী ও সংলগ্ন তিন উপজেলায় ২৬টি খাল ও নদীর সীমানা চিহ্নিত, দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন, সীমানা পিলার স্থাপন এবং স্কেচ ম্যাপ তৈরি করে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৬০ জন দখলদার এবং ৩৮২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত হয়। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তৈরি করা প্রতিবেদন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসক’র প্রতিনিধির সমন্বয়ে সিএস ম্যাপ অনুযায়ী মহানগরী এলাকায় যৌথভাবে পরিচালিত জরিপে ভৈরব ও রূপসা নদীর চারটি (বানিয়াখামার, হেলাতলা, টুটপাড়া ও লবণচরা) মৌজায় নদীর সীমানা চিহ্নিত করে পিলার স্থাপন করা হয়েছে এবং ১,১৫৪ জন দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এবিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খাল উদ্ধার করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একাজ করা হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, তার অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল দখলদার উচ্ছেদ। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কাজ করা হবে। কষ্টকর হলেও যেভাবেই হোক এ কাজ শেষ করা হবে। কোনো ভাবেই দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দখলদারদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।