• মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫০ রাত

বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে ইলিশ

  • প্রকাশিত ০৬:২২ সন্ধ্যা জুলাই ৯, ২০১৯
ইলিশ
ইলিশ। ছবি : মেহেদি হাসান/ ঢাকা ট্রিবিউন

এক কেজির ওপরের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

ভোলার মেঘনা নদীর জলসীমায় ইলিশ মাছ ধরা পড়া শুরু হয়েছে। গত ক’দিনের টানা বর্ষণে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। তবে সংখ্যায় কম হলেও মূল্য বেশি থাকায় জেলেরা পুষিয়ে উঠছেন। সামনের পূর্ণিমার জোয়ারকে কেন্দ্র করে ইলিশের আমাদনি বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ইলিশের দেখা পাওয়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। বদলে গেছে জেলে পল্লীগুলোর চিত্র। আর সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন মাছের ঘাট, আড়ৎ, পাইকারী ও খুচরা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক ও দর কষাকষিতে মুখরিত হচ্ছে প্রতিদিন ইলিশের বাজার।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম জানান, এবছর মৌসুমের প্রথম থেকেই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না মিললেও জেলেরা শূন্য হাতে ফিরছে না। যেহেতু ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত গভীর সমূদ্রে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাই জেলার ৩ লাখের ওপরে জেলে মেঘনায় ছুটছেন। জালে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা খুশি। 

সামনের বর্ষণে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে বলে জানান জেলেদের এ নেতা।

অন্যদিকে মৎস্য বিভাগ বলছে, বৃষ্টির ওপর নির্ভর করছে ইলিশের গতিপথ। যেহেতু বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ইলিশের আমদানিও বাড়ছে। পুরো মৌসুম জুড়ে এবার ইলিশের সরবরাহ থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা মৎস্য বিভাগের।

সদর উপজেলার মেঘনা পাড়ের ভোলার খাল মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. আল-আমিন জানান, গত সাতদিন ধরে ইলিশ মাছের আমদানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন নৌকা-ট্রলারে করে ঘাটে মাছ আসছে। তবে দাম একটু বাড়তি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত না হওয়াকে তিনি মাছ না পাওয়ার কারণ হিসাবে জানান।

সদর উপজেলার মেঘনার ভোলার খাল মাছের ঘাট, কোরার হাট মাছের মোকাম, তুলাতুলি মাছ ঘাট, বিশ্বরোড মাছের ঘাট, জংশন এলাকার মাছঘাট, ইলিশার মাছ ঘাট, তেতুলিয়ার ভেদুরিয়া মাছঘাট, শান্তির হাটের মাছঘাট, দৌলতখান উপজেলার পাতার খাল, চরফ্যশনের সামরাজ মাছ ঘাট, চেয়ারম্যানের খাল মাছ ঘাট, নুরাবাদের খাল, চকিদারের খালের ঘাট, শশীভূষণের বকসিঘাটসহ বিভিন্ন ইলিশের মোকামে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। মোকামগুলোতে জেলেদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

সদরের ইলিশা এলাকার জেলে রহমত আলী, লোকমান মাল, কাসেম মাঝি, ফোকান মাঝি, সেরাফাত হোসেন বলেন, বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইলিশ বাড়ছে নদীতে। একটি বড় বোট নিয়ে নদীতে গেলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে। খরচ বাদ দিলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো থাকছে নৌকা প্রতি। আর ছোট নৌকায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো থাকছে। এতে করে জেলেদের দেনার দায় কমে আসছে। 

এদিকে মোকাম ঘুরে দেখা গেছে এক কেজির ওপরের ইলিশ প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের হালি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ চারটি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। ইলিশের আমদানি আরও বাড়লে দাম কমবে বলে জানান মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার বকসি মাছঘাটের আড়ৎদার মো. নান্নু মিয়া মনে করেন, সরকারের মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াতে এ বছর মৌসুমের প্রথম থেকেই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজাহারুল ইসলাম বলেন, ইলিশের মৌসুম সাধারণত বর্ষার ওপর নির্ভর করে। ইতোমধ্যে টানা বর্ষণ চলছে। আমরা বিভিন্নস্থানে খবর পেয়েছি, তাতে ইলিশ পড়া শুরু হয়েছে। এবছর জেলায় ৬০ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা চলবে। তাতে আশা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা যাবে। সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি ইলিশ পড়বে বলে আশা প্রকাশ করে।