• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৭ দুপুর

আদালতে মেয়ের হত্যাকারীদের দেখে জ্ঞান হারালেন নুসরাতের মা

  • প্রকাশিত ০৬:৫৫ সন্ধ্যা জুলাই ১০, ২০১৯
নুসরাত মা
বুধবার ফেনীর আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নুসরাতের মা ঢাকা ট্রিবিউন

সকালে কঠোর নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামিকে কারাগার থেকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়

ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাহসহ হত্যাকারীদের আদালতের কাঠগড়ায় দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

এসময় কোর্ট পুলিশের সহায়তায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান তাকে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান । 

বুধবার (১০ জুলাই ) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এঘটনা ঘটে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একমাত্র মেয়ে নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য ও জেরা শেষে  আদালতের এজলাস থেকে শিরিন আক্তার বের হওয়ার সময় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। 

আদালত সূত্র জানিয়েছে, এদিন সকাল ১১টায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়। পরে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জেরা অনুষ্ঠিত হয়।

খবর পেয়ে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশনে তাকে দেখতে যান ফেনী পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,  অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ব্লাড সুগার কম হওয়ায় তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর  শিরিন আক্তার এখন কিছুটা সুস্থ আছেন । জেরা শেষে বের হওয়ার সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই মামলার ১৪ নম্বর শেখ আব্দুল হালিম মামুন, ১৫ নং মো আবু ইউসুফের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রাখা হয়েছে।

বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, নুসরাতে মা শিরিন আক্তার সাক্ষ্যদান কালে আদালতে বলেন, ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায়পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালে সে ওই মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে আগুনে পুড়িয়ে নুসরাতকে পড়িয়ে হত্যা করার জন্য শাহদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপি,  জাবেদ হোসেন, নির্দেশ দেয়। তারা সবাই মিলে নুসরাতকে পুড়িয়ে মেরেছে। 

বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, নুসরাতের মায়ের সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাহ আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন ও আহসান কবির বেঙ্গল তাকে জেরা করেন। 

জেরায় আইজীবীরা বলেন, “আপনার মেয়ে পড়াশোনা বাদ দিয়ে প্রেম করতো, অন্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। একারণে তাকে শাসন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আপনি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য  দিয়েছেন।”

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং সরাসরি না বলে জবাব দেন। এইসময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপিকে উদ্দেশ্য করে নুসরাতের মা বলেন, “তোমাদেরকে আমি নুসরাতের মতই মনে করতাম। এরপরও তোমরা আমার নুসরাতকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারলে। এইজন্য আমি তোমাদের কঠিন বিচার দেখার অপেক্ষায় থাকব।”

এর আগে সকাল ১০টায় কঠোর নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামিকে কারাগার থেকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। 

প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যায় সে। এঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।