• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০০ বিকেল

বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, পানিবন্দি মানুষ

  • প্রকাশিত ১০:৪৭ রাত জুলাই ১২, ২০১৯
তিস্তা
নীলফামারীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার পানি ঢাকা ট্রিবিউন

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর বিভিন্ন জায়গার বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে

ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। 

উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট।

এদিকে, ওই পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬ টায় বন্যার পানি বেড়ে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা উপজেলার প্রায় ১৫টি চর ও চরগ্রাম হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া, তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর বিভিন্ন জায়গার বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারিভাবে তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলায় ৫০মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ১৫টি চর ও গ্রামের মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে । 

তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৬টায় ২৫ ও রাত ৯টায় আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। 

শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে তিস্তা পাড়ের মানুষজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই হিসাব মানতে নারাজ। এলাকাবাসীর পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ধারণা করা হচ্ছে, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার অন্তত ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড অজ্ঞাত কারনে নদীর পানির সঠিক হিসাব প্রকাশ করছে না। 

নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা এসএ হায়াত জানান, ইতোমধ্যে ডিমলা উপজেলার জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।