• বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

মিন্নি: খুনীদের আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

  • প্রকাশিত ০৭:২৩ রাত জুলাই ১৪, ২০১৯
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ঢাকা ট্রিবিউন

শনিবার রিফাতের বাবা ছেলের হত্যাকাণ্ডে পূত্রবধূ মিন্নির জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যায় জড়িত প্রকৃত খুনীদের আড়াল করতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে দাবি করেছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

রবিবার দুপুর একটার দিকে বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকায় তার বাবার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় মিন্নি তাকে অভিযুক্ত করে তার শ্বশুরের করা সংবাদ সম্মেলনকে ভিত্তিহীন দাবি করেন।

তিনি বলেন, "০০৭ গ্রুপ বরগুনায় যারা সৃষ্টি করেছেন তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থশালী। তাই তারা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকার জন্য আমার শ্বশুরকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে রিফাত হত্যার বিচারকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি মনে করি খুনীদের আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।"

এসময় তার বিরুদ্ধে রিফাতের বাবার করা অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, "গত ২৬ জুন আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আমি সন্ত্রাসীদের বার বার প্রতিহত করার চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি। বারবার সবার কাছে সহযোগীতা চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।"

"এরপর ২৭জুন আমার শ্বশুর বরগুনা সদর থানায় ১২জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলায় আমাকে কোথাও অভিযুক্ত না করে ১ নম্বর স্বাক্ষী বানানো হয়। এখন হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে", যোগ করেন মিন্নি।

সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে, কিন্তু আসল ঘটনা জানার কেউ চেষ্টাও করেননি। আমি সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম। রিফাত সেখানে গিয়ে আমাকে বলে বাবা এসেছে; তোমাকে ডাকছে। আমি এসে দেখি রিফাতের বাবা তাই আমি পুনরায় কলেজের ভিতরে ঢুকে যেতে চাইছিলাম কিন্তু রিফাত আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আবদার করে। এর মধ্যেই রিশান ফরাজী, রিফাত ফরাজীসহ আরো কয়েকজন এসে ওকে জাপটে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাই । হাটতে হাটতে তাদের পিছনে যাই। যখন দেখি রিফাতকে মারধর শুরু করেছে আমি প্রাণপন চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচাতে কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারিনি।" 

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে বলেন, "যেহেতু আমি একজন স্বামী হারা অসহায় নারী, আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।" 

উল্লেখ্য, রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন জনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।