• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

তালাকের নোটিশ পেয়ে খুশিতে তিন মন দুধে গোসল স্বামীর, গ্রামবাসীকে করালেন ভূরিভোজ!

  • প্রকাশিত ১১:০২ রাত জুলাই ১৫, ২০১৯
টাঙ্গাইল
তিন মন দুধ ঢেলে আলমকে গোসল করানো হয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘এ বিয়েকে আলমের পরিবার মেনে নিতে পারেনি যৌতুক থেকে বঞ্চিত হওয়ায়, আর গ্রামবাসী রুষ্ট হয় প্রচলিত নিয়মে বিয়ের নিমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত হওয়ায়। তাই বিয়ের পর উভয় পক্ষেই শুরু হয় অশান্তি।’

টাঙ্গাইলের স্ত্রী রীণার (১৬) তালাকের নোটিশ পেয়ে খুশিতে তিন মন দুধে গোসল করছেন স্বামী আলম (১৮)। শুধু গোসলই নয়,আনন্দে দুই শতাধিক পড়শিকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে ভূরিভোজও করিয়েছেন তিনি। 

১৫ জুলাই, সোমবার জেলার মধুপুরের জাঙ্গালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত নয়ন মিয়ার ছেলে আলমের (১৮) সাথে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রীণার (১৬) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি টের পেয়ে মেয়ে পক্ষ আলমকে বাড়িতে ডেকে গোপনে বিয়ে পড়িয়ে দেন।

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ছামাদ বলেন, “এ বিয়েকে আলমের পরিবার মেনে নিতে পারেনি যৌতুক থেকে বঞ্চিত হওয়ায়। আর গ্রামবাসী রুষ্ট হয় প্রচলিত নিয়মে বিয়ের নিমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত হওয়ায়। তাই বিয়ের পর উভয় পক্ষেই শুরু হয় অশান্তি। বেশ ক’বার সালিশ বসে, তবে সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে গ্রামে দুই পক্ষে দেখা দেয় উত্তেজনা। শান্তি স্থাপনে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী রীণা পরিবারের সম্মতিতে গত রবিবার আইনসঙ্গতভাবে আলমের নিকট তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়। এতে স্বামী আলমসহ অনেকেই খুশি হন। দীর্ঘ দিনের ঝুঁলে থাকা বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় পাশের বাজার থেকে তিন মন মহিষের দুধ কিনে আজ (সোমবার) আলমকে গোসল করান তার পরিবারের সদস্যরা। একই সাথে দুপুরে গ্রামের দুই শতাধিক মানুষকে ভূরি ভোজ করানো হয়।” 

এ বিষয়ে বর আলম বলেন,“রীণার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। যেটি তার পরিবার গোপন রেখেছিল। তালাকের মাধ্যমে গ্রামে শান্তি ফিরে আসায় এমনটি করেছি।” 

অপরদিকে রীণার দাদা মুক্তার হোসেন বলেন, “আলম নেশাগ্রস্ত ছেলে। প্রায়ই রীণাকে নির্যাতন করতো। এ জন্য বৈধ নিয়মে রীণাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চল এলাকায় প্রায় সমসংখ্যক গারো ও বাঙালিদের নিয়ে গঠিত জাঙ্গালিয়া গ্রামটি যোগাযোগ ও শিক্ষাদীক্ষায় পশ্চাৎপদ। বর্তমান সরকারের আমলে কিছুটা রাস্তা পাকা হয়েছে ও গ্রামটিতে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। তবে নারী শিক্ষার করুণ হাল। বাল্য বিয়ে হয় হরদম। গ্রামটিতে শুভ খবরে দুধ ঢেলে আপনজনকে আশীর্বাদ করা পাহাড়ি গারো সমাজের প্রচলিত নিয়ম। গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোচরা নতুন বধূকে বরণে দুধে স্নান করাতেন, বিচ্ছেদ হওয়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পুনঃএকত্রীকরণ হলে দুধ ঢেলে আশীর্বাদের রেওয়াজ এখনো রয়েছে গ্রামটিতে। কিন্তু তালাকের নোটিশ পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্বামী খুশিতে ডগমগ হয়ে দুধে গোসল করেছেন এমন ঘটনা এর আগে ঘটেনি।