• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০ রাত

যমুনা সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মরে ভেসে উঠেছে অর্ধকোটি টাকার মাছ

  • প্রকাশিত ১০:০৪ সকাল জুলাই ১৯, ২০১৯
বিষাক্ত বর্জ্য
যমুনা সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে ভেসে উঠেছে লাখ লাখ টাকার মাছ ঢাকা ট্রিবিউন

ভুক্তভোগীরা জানান, মাছগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। সব মাছ মরে ভেসে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা এখন পথে বসেছেন

তারাকান্দির যমুনা সার কারখানার সার পঁচে ও বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে একটি বিলের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চরপাড়া খুটামারা বিলে বিপুল এই ক্ষতি হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসী জানান, চরপাড়া গ্রামের ৩০ জন্য সদস্য মিলে চরপাড়া মৎস্য প্রকল্প নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে খুটামারা বিলের ৬০ একর জমিতে তারা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ চাষ শুরু করেন।

উক্ত প্রকল্পের সদস্য ময়নাল হোসেন জানান, “মাছগুলো বড় হয়ে বর্তমানে এর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। গত ১৪ জুলাই থেকে বিলের সমস্ত মাছ মরতে শুরু করে। বিলে রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, কই, মাগুর ও সিলভারকার্প জাতীয় মাছসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ ছিল। সব মাছ মরে ভেসে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা এখন পথে বসেছেন।”

জানা গেছে, দৈনিক এক হাজার ৮০০ মে. টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম যমুনা সার কারখানা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও অ্যামোনিয়া গ্যাস সরাসরি বাতাস, মাটি ও পানিতে ছাড়া হয়। এতে কারখানার পার্শ্ববর্তী বিল ও পুকুরগুলোর মাছ প্রায়ই গণহারে মরে যায়। এছাড়া জমির ফসল ও গাছপালা ক্ষয়ক্ষতিসহ অন্তত দশটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছে।

যমুনা সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মঈনুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।