• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৫ সন্ধ্যা

ট্রাম্পের কাছে মিথ্যাচার করা প্রিয়ার বক্তব্যে নিন্দার ঝড়

  • প্রকাশিত ০৩:০৪ বিকেল জুলাই ২০, ২০১৯
প্রিয়া সাহা
গত বুধবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজে ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সাথে ট্রাম্প সৌজন্য সাক্ষাৎ চলাকালে এ অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা । ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

জাতিগত নির্যাতনের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের প্রতিনিধিদের সাথে ট্রাম্পের বৈঠককালে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মিথ্যাচার করেন প্রিয়া সাহা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭০ লক্ষ সংখ্যালঘু নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। গত বুধবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজে ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সাথে ট্রাম্প সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। 

সাক্ষাৎকালে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত প্রিয়া সাহা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে এমন ভুল তথ্য তুলে ধরেন। ওই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ।  

এদিকে, গণমাধ্যমে ওই ভিডিওটি প্রকাশের পরই প্রিয়ার বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তার এ ধরণের মন্তব্যের প্রভাব পড়েছে সরকারের উচ্চমহলেও।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “তার এ ধরণের বক্তব্য শুধু নিন্দনীয়ই না, এরমধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে লুক্কায়িত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আরও উৎসাহিত করবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেউ একমত না।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, “প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তা একেবারেই মিথ্যা। বিশেষ মতলবে এমন উদ্ভট কথা বলেছেন তিনি। আমি এমন আচরণের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একটি বেসরকারি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে নালিশ চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, “তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।” তার অভিযোগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পও জানেন যে তার কাছেও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের এখানকার দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত তথ্য পেয়ে থাকে এবং আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকি।”

এদিকে শনিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যেই প্রিয়া সাহা এই ধরনের বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ করেছেন।”

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া হোয়াইট হাউজের সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, শাড়ি পরিহিতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে হাত বাড়িয়ে বলছেন, “স্যার আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিপীড়নের শিকার। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১ কোটি ৮০ লক্ষ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।"

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বাড়ি-ঘর হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি-জমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা (প্রসাশন/সরকার) কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এখন পর্যন্ত।"

এসময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, "কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?" ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া বলেন, "তারা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এবং তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সবসময়ই পায়।"