• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৩ রাত

মিন্নির বাবা: আমার মেয়েকে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ

  • প্রকাশিত ০৯:৪৯ রাত জুলাই ২০, ২০১৯
মোজাম্মেল হোসেন কিশোর
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। ঢাকা ট্রিবিউন

'আমার মেয়ের কিছু হলে আমি আত্মহত্যা করবো'

বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যার ঘটনায় আটক স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকি মিন্নিকে পুলিশ জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। শনিবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় মিন্নির কিছু হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন।

তিনি বলেন, "আমার মেয়েকে চাপ দিয়ে তার উপর মানসিক নির্যাতন করে তাকে দিয়ে জোর পূর্বক জবানবন্ধি  নেওয়া হয়েছে। শম্ভু ও শম্ভুপুত্র সুমন প্রশাসনের সাথে ষড়যন্ত্র করে খুনীদের আড়াল করতে আমার মেয়েকে ফাঁসাচ্ছে। আমার মেয়ের কিছু হলে আমি আত্মহত্যা করবো।"

এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগারে গিয়ে মিন্নির সাথে দেখা করেন মিন্নির বাবা-মা, ভাই-বোন ও চাচা-চাচী। এসময় মিন্নি তাদের কাছে জোরপূর্বক জবানবন্দি নেয়ার অভিযোগ করেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তারা জানান যে মিন্নি তাদের বলেছেন, পুলিশ জোর করে তাকে দিয়ে জবানবন্ধি দিতে বাধ্য করেছে। জবানবন্ধি না দিলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হবে বলে হুমকিও দিয়েছে।

মিন্নির মা মিলি আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমার মেয়েকে ওরা মারতে মারতে অসুস্থ বানিয়েছে। আমার মেয়ের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। আমার মেয়েকে ফাঁসিয়ে কাদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ সেটা এখন দেশবাসী জানে। আমার মেয়ের এই হত্যার সাথে কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।"

মিন্নির বাবা কিশোর বলেন, "ঢাকা থেকে আইনজীবীরা আসবে শুনে পুলিশ নির্যাতন করে তড়িঘড়ি আমার মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে।  ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার মেয়েকে গ্রেফতার করে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন আবার তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করানো হলো। এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।"

"পুলিশ ও প্রভাবশালী মহল যৌথভাবে আমার নীরিহ মেয়েকে ফাঁসিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে। আমার মেয়েকে স্বাক্ষী থেকে আসামি বানিয়েছে। খুনীদের আড়াল করতে তারা কাজ করছে", যোগ করেন তিনি।

মিন্নির চাচা আবু সালেহ বলেন, "আমরা জেলখানাতে মিন্নির সাথে ঠিক মতো কথা বলতে পারিনি। এসময় সেখানে সাদা পোশাকে অনেক অপরিচিত লোক আমাদের অনুসরণ করছিল। আমরা ঠিকমতো মিন্নির সাথে কথা বলতে পারিনি।"

এসময় মিন্নি অনেক অসুস্থ দাবি করে তার পরিবারের লোকজন তাকে সুচিকিৎসা দেয়ার কথাও বলেন।

এদিকে মিন্নির পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, "মিন্নির বাবা যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অমূলক। এর কোন ভিত্তি নেই। মিন্নি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই জবানবন্ধি প্রদান করেছে।"