• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৩ রাত

প্রিয়া সাহার মন্তব্যের জন্য মার্কিন দূতাবাসকে দায়ী করলেন জয়

  • প্রকাশিত ০৩:০১ বিকেল জুলাই ২১, ২০১৯
সজীব ওয়াজেদ জয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: ফাইল ছবি।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগ বিরোধী তা নতুন কিছু নয়। তাদের সকল অনুষ্ঠানেই জামাত নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিপীড়ন সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগকারী বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।

রবিবার (২১ জুলাই) নিজের ফেসবুক ওয়ালে এবিষয়ে একটি মতামত পোস্ট করেন জয়। স্ট্যাটাসে প্রিয়া সাহার এই মন্তব্যের জন্য ঢাকার মার্কিন দূতাবাসকে দায়ী করেন তিনি।

জয়ের পোস্টটি হুবহু দেওয়া হলো, 

“গত নির্বাচনের পর আমি একটু বিরতি নেই, তাই এই পেজেও কম পোস্ট করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার কিছু বলা উচিত বলে মনে হলো। আপনারা হয়তো দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ভয়ংকর ও মিথ্যা দাবি। উনি বলেছেন বাংলাদেশ থেকে নাকি ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা 'গায়েব' বা 'গুম' হয়ে গেছেন। প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি যে সংখ্যাটি উনি বলছেন তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যার ১০ গুণেরও বেশি, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার কাছাকাছি। এতো মানুষ গুম হলো সবার অজান্তে? ৩ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ গায়েব হলো কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই?

প্রিয়া সাহাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। অনেক সমালোচনার পর আজ তারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন তারা অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। কিন্তু যখন তাদের একজন মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদেরই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কোনো ভয়ংকর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন, তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো, যা তারা করেননি।


আরও পড়ুন: প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা


এই বিষয়টি থেকে কিন্তু মার্কিন দূতাবাসেরই দুরভিসন্ধি প্রকাশ পায়। তারা জেনেশুনেই প্রিয়া সাহাকে বাছাই করে কারণ তারা জানতো উনি এই ধরণের ভয়ংকর মিথ্যা মন্তব্য করবেন। এই ধরণের কাজের পিছে একটাই কারণ চিন্তা করা যায়: মানবিকতার দোহাই দিয়ে আমাদের এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। মনে রাখা ভালো কয়েকদিন আগেই মার্কিন এক কংগ্রেসম্যান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন বাংলাদেশের মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করা উচিত।

মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগ বিরোধী তা নতুন কিছু নয়। তাদের সকল অনুষ্ঠানেই জামাত নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্র পরিষ্কারভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সৌভাগ্যবশত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্যান্য দেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন।  তারা এই ধরণের ভয়ংকর মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করার মতন বোকাও নন।”


আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে মিথ্যাচার করা প্রিয়ার বক্তব্যে নিন্দার ঝড়


প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজে ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সাথে ট্রাম্প সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া হোয়াইট হাউজের সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে হাত বাড়িয়ে বলছেন, “স্যার আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিপীড়নের শিকার। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১ কোটি ৮০ লক্ষ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।"

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বাড়ি-ঘর হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমি-জমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা (প্রসাশন/সরকার) কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এখন পর্যন্ত।"

এসময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, "কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?" ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া বলেন, "তারা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এবং তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সবসময়ই পায়।"