• শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫১ রাত

মিন্নির বাবা-মাকেও আইনের আওতায় আনার দাবি রিফাতের বাবার

  • প্রকাশিত ০৩:৩৫ বিকেল জুলাই ২১, ২০১৯
রিফাতের বাবা
শনিবার বরগুনার প্রেস্ক্লাব চত্বরে কথা বলছেন রিফাতের হতভাগ্য বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফ। ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি বলেন, ‘মিন্নির বাবা-মা আমার কাছে তাদের মেয়ের আগের বিয়ের বিষয়টি গোপন করে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে। আমি মিন্নির বাবা-মাকেও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি’

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের ও মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

রবিবার (২১ জুলাই) দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এদাবি জানান তিনি। এসময় নিহত রিফাতের মা, বোন, চাচা-চাচীসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, “বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিনে দুপুরে আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে ০০৭ গ্রুপের সদস্যরা। এঘটনায় আমি একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। প্রাথমিকভাবে মিন্নির যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে সেখানে মিন্নির ভুমিকায় সবাই প্রশংসা করলে আমি প্রাথমিকভাবে মিন্নিকে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী করি। পরবর্তিতে আরো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ায় মিন্নির ভূমিকা নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়। এছাড়াও নয়ন বন্ডের মায়ের কথায় আরো প্রকাশ্যে আসে মিন্নির আসল চেহারা। এরপর আমি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাই। পুলিশও তাদের তদন্তে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এতেই প্রতিয়মান হয় যে মিন্নিই এই খুনের প্রধান পরিকল্পনাকারী।”

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছুকিছু গণমাধ্যম আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ছেলে হারিয়েছি আমার পাশে না দাড়িয়ে তারা খুনিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মিন্নির বাবা-মা আমার কাছে তাদের মেয়ের বিয়ের বিষয়টি গোপন করে আমার ছেলের সাথে তাদের মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। এই বিয়েই আমার ছেলের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মিন্নির বাবা মাকেও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের থামাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইমামলায় পুলিশ এপর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। পরে মিন্নিকেও রিফাত হত্যা মামলার আসামি করে গ্রেফতার দেখানো হয়। মিন্নিসহ এপর্যন্ত ১৪ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।