• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫৪ সন্ধ্যা

মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে পিটুনিতে লাশ হলেন বাবা

  • প্রকাশিত ০৮:৪৭ রাত জুলাই ২১, ২০১৯
হত্যা
প্রতীকী ছবি

সিরাজ জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মেয়ের খোঁজে গিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন সিরাজ (৩০) নামে এক যুবক। গতকাল শনিবার উপজেলার মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আজ রোববার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত দেড় থেকে দুইশ'জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। 

নিহত সিরাজ ভোলা জেলার লালমোহন থানার চরলেংগুটিয়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক মো. সেলিম মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিরাজ জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি। ১০ বছর আগে সিরাজের সঙ্গে বিয়ে হয় শামসুন্নাহার নামের এক নারীর। বিয়ের পরে তাদের মিঞ্জু নামের এক কন্যা সন্তান হয়। 

পরে ২০১৫ সালে শামসুন্নাহারকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকার মোহন চান্দের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন সিরাজ। সেখানে প্রতিবেশী মান্নানের সঙ্গে শামসুন্নাহারের পরিচয় হয়। এক পর্যায় পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তারা। 

সাত মাস আগে শামসুন্নাহার সিরাজকে তালাক দিয়ে সাত বছর বয়সী মিঞ্জুকে নিয়ে মান্নানের সঙ্গে পালিযে যান। এরপর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সিরাজ। মেয়ে ও স্ত্রীর খোঁজে প্রায়ই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় যেতেন তিনি। সেখানেই পরিচয় হয় আইডিয়াল ইসলামিক স্কুলের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ও একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সাদিয়ার (৬) সঙ্গে। মেয়ের সঙ্গে চেহারায় মিল থাকায় তিনি সাদিয়াকে নিজের মেয়ে ভেবে প্রায়ই স্কুলের সামনে দেখতে যেতেন।

শনিবার সকালেও সিরাজ সাদিয়াকে দেখতে গিয়ে হাত ধরে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়রা ছেলেধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, 'আমার ছেলে কানে শুনতো না কথা বলতে পারতো না। আমার পা ভাইঙ্গা যাওয়ার পর থাইকা কাম করতে পারতাম না। শুধু অভাবের তাড়নায় ছেলেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আনছিলাম। তারপর বউডাও মাইয়া লইয়া চলে যায়। যাওয়ার পর থাইকাই মাইয়ারে খুঁজতো। খাইতো না ঘুমাইতো না খালি মাইয়া মাইয়া কইরা এদিক সেদিক খুঁজতো। ওদিন ও গেছিলো কিন্তু আমার পোলাডারে ওরা মাইরা লাইলো। আমি আমার পোলার খুনিগো বিচার চাই।' 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. সেলিম মিয়া জানান, বাক প্রতিবন্ধি সিরাজকে পিটিয়ে হত্যা করায় এসআই সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত দেড় থেকে দুইশত জনকে আসামি করা হয়েছে। একই দিন শারমিন নামের আরেক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে তার মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও এক থেকে দেড়শ'জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দুপুরে দুটি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।