• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

প্রিয়া সাহার ভাইয়ের বাড়িতে 'আগুন দেয়া' নিয়ে যা জানালেন মন্ত্রী

  • প্রকাশিত ০৮:৫১ রাত জুলাই ২১, ২০১৯
গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: বাসস

'স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সবাইকে জানাতে চাই, প্রিয়া সাহা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চর বানিয়ারি গ্রামে বসবাস করেন না এবং এ গ্রামে তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বাড়ি-ঘর নেই'

প্রিয়া সাহার সম্পত্তি নিয়ে যাওয়া বা তার ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

রবিবার সচিবালয়ে তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, "পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দেশের সকল হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলকে অবহিত করতে চাই আমার এলাকায় কোনভাবেই কোন অসম্প্রীতি হয়নি, ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কোন ঘটনা ঘটেনি। প্রিয়া সাহার কোন সম্পত্তি কেউ নিয়ে যাওয়া বা তার ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অসত্য। মুসলিম মৌলবাদীরা ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তাও অসত্য।"

ইতোমধ্যে পিরোজপুর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় সকলে প্রিয়া সাহার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে শ ম রেজাউল করিম বলেন, "আমার এলাকায়  মৌলবাদীর অবস্থান নেই। আমার এলাকায় হিন্দু-মুসলিমের সম্প্রীতি, সহাবস্থান একটি অপূর্ব নিদর্শন সৃষ্টি করেছে। এটা হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের সম্প্রীতির জায়গা অনেক বড়। কাজেই প্রিয়া সাহার বক্তব্যে কোন মানুষ যেনো বিভ্রান্ত না হন বা কেউ যেন ফায়দা লুটে নিতে না পারেন।"

"স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে এবং একই ইউনিয়নের অধিবাসী হিসেবে দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই, প্রিয়া সাহা পিরোজপুর-১ আসনের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চর বানিয়ারি গ্রামে বসবাস করেন না এবং এ গ্রামে তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বাড়ি-ঘর নেই। এগ্রামে তার বাবা ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে। তাদের বাড়িতে কেউ থাকেন না," যোগ করেন তিনি।

গণপূর্ত মন্ত্রী আরো বলেন, "একটি পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রিয়া সাহার ভাই জগদীশ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, এমনকি কাউকে সন্দেহও করেননি। সেই এজাহারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠী বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ এ জাতীয় ঘটনা ঘটিয়েছে এমন শঙ্কার কথা বলা হয়নি। মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে।"

এছাড়াও মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "এই এলাকায় বলেশ্বর নদীতে চর জেগে উঠায় বলেশ্বরের দুই পারের লোকেদের মধ্যে সরকারি খাস জমির দাবী করা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় জগদীশ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস বাদী। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় শ্রেণির লোকদের আসামি করেছেন।"

এসময় নিজ নির্বাচনী এলাকায় একজন হিন্দুও কোনভাবে গুম হয়েছেন কিনা, প্রিয়া সাহার অভিযোগের কোন সত্যতা আছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী।