• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

‘একমুঠো চাল বা অন্তত একটি টাকা নিয়ে কনসার্টে আসুন’

  • প্রকাশিত ০৪:৪৪ বিকেল জুলাই ২২, ২০১৯
কুড়িগ্রাম
ডুবে গেছে বসত ঘর, নেই কোনো খাবার, তবুও বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে শেষ সম্বল বাঁচাতে বন্যার পানির বিরুদ্ধে এক নারীর যুদ্ধ। ছবিটি কুড়িগ্রাম থেকে তোলা। ফোকাস বাংলা

‘বর্তমানে গোটা জেলার উপর দিয়ে বইছে বন্যার পানি। সেখানে তেমন শুকনো জায়গা নেই। মানুষ বসে থাকার জায়গা পাচ্ছে না। কেউ মারা গেলে সেখানে দাফন করারও কোনো অবস্থা নেই।’

কুড়িগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তার জন্য ‘কনসার্ট ফর কুড়িগ্রাম’ এর আয়োজন করেছে রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি। 

আগামী ২৭ জুলাই, শনিবার বেলা ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, কুড়িগ্রামে এ বছর শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে, দুই লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলাবাসী। এমন পরিস্থিতি কুড়িগ্রামের দিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নজর ফেরাতে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

বসতঘর ডুবে যাওয়ায় নৌকাতেই সংসার পেতেছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। ঢাকা ট্রিবিউন

এ বিষয়ে রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাধারণ সম্পাদক রকিব মোহাম্মদ হাসান বলেন, “নানা কারণে কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত ও দরদ্র জেলায় পরিণত হয়েছে। নদীশাসন না করায় প্রতিবছর জেলাবাসীকে ভয়াবহ বন্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আর এ বছরের বন্যা বিগত সকল বন্যার চেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ জুলাই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৬৫ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে, পুরো জেলা একটি নদীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে গোটা জেলার উপর দিয়ে বইছে বন্যার পানি। সেখানে তেমন শুকনো জায়গা নেই। মানুষ বসে থাকার জায়গা পাচ্ছে না। কেউ মারা গেলে সেখানে দাফন করারও কোনো অবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতেও সহযোগিতা বঞ্চিত রয়েছে জেলার ৯ উপজেলার দুই লক্ষাধিক পরিবার। তাই কুড়িগ্রামের দিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ এবং দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা সরবরাহের জন্য এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নাহিদ হাসান নলেজ বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে কুড়িগ্রাম একটি পিছিয়ে থাকা জেলা। সেখানে কর্মসংস্থানের তেমন ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া, কুড়িগ্রামের উন্নয়নে বিগত সরকারগুলোও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর উপর প্রতিবছরের বন্যায় জেলার মানুষজন তাদের ঘর-বাড়ি হারাচ্ছে। এ বছর বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম শহরসহ পুরো জেলা পানির নীচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে কুড়িগ্রামবাসী। এমন পরিস্থিতে কুড়িগ্রামের উন্নয়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।”

বাড়ি ডুবে গেছে বন্যার পানিতে। তাই ঢাকা কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাশেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে এই পরিবারটি। ছবি: ফোকাস বাংলা 

এদিকে কনসার্ট ফর কুড়িগ্রামের আহব্বায়ক রফিকুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কুড়িগ্রাম এমনিতেই গত কয়েক দশক ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়া জেলা। দারিদ্রপীড়িত এই জেলায় মানুষ এমনিতেই ঠিকমতো খাবার পায় না, কাজ পায় না। বন্যায় সেই অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমান করা যায়। কয়েকটি উপজেলা পুরোপুরি পানির নিচে, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। কিন্তু সে অনুযায়ী বরাবরের মতোই সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি। আবার কিছু সাহায্য গেলেও বিগত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যার বেশিরভাগই লুটপাট হয়। এমন পরিস্থিতিতে অবহেলিত এই জেলাটির দিকে আমরা সবার নজর ফেরাতে চাই। নানান বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধার বৈষম্য থেকে আমরা মুক্তি চাই। এসব মিলিয়েই কনসার্ট ফর কুডিগ্রামের আয়োজন।”

রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, “আমরা চাই,  দেশবাসী আমাদের পাশে দাঁড়ান। একমুঠো চাল বা চিড়া, এক বোতল পানি নিয়ে, একটি টাকা নিয়ে কনসার্টে আসুন, জেলাটির প্রতি সবার নজর দেবার দাবি তুলুন।”

বন্যার্তদের সাহায্যার্থে ‘কনসার্ট ফর কুড়িগ্রাম’ আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯১৪২৫৯১২৪ নম্বরে।