• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

‘এক হাজার টাকার নোট মেশিনে দিলে বের হয় এক হাজার ডলার’

  • প্রকাশিত ০৯:২৪ রাত জুলাই ২৪, ২০১৯
র‌্যাব
র‌্যাবের হাতে আটক বিদেশি প্রতারক। ছবি: সংগৃহীত

টাকা দেওয়া হলে সেটা বিশেষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওই বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়, বেরিয়ে আসে ভেতরের অপর প্রকোষ্ঠে গোপনে সংরক্ষণ করে রাখা এক হাজার ডলারের নোট

এক হাজার টাকার একটি নোট বাক্সে ঢোকানোর পর বেরিয়ে আসে এক হাজার ডলার। প্রকাশ্যে এদৃশ্য দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হয় বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে। একবার এক হাজার টাকার বিনিময়ে এক হাজার ডলার পাওয়ার পর আরও বেশি পরিমাণে টাকা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। আর তখনই কৌশলে ডলার বানাতে সময় লাগার কথা বলে টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেয় প্রতারকরা। অভিনব এই প্রতারণার অভিযোগে তিন ক্যামেরুনের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-থিকামেন রড্রিগুয়ে, ডংমেজা গুয়েগনি ও আলেকজান্ডার মাফেজা।

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডি ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করার পর ২৪ জুলাই, বুধবার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে তাদের হাজির করা হয়। র‌্যাবের ওই সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

তিনি বলেন, এই বিদেশি প্রতারকচক্রের সদস্যরা ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসে। এরপর তারা বাংলাদেশের গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করে। প্রথমে তারা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদেরকে টার্গেট করে কার্যক্রম শুরু করে। তারা ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির অফিস কার্যালয় গিয়ে নিজেদেরকে তাদের দেশের বড় কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অংশীদার বা মালিক হিসেবে পরিচয় দেয়। কখনও বড় কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পরিবারের পরিচালিত বলে দাবি করে। দেশি ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির সঙ্গে পরিচয় পর্বের পর তার সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করে।

অতিরিক্ত ডিআইজি আরও জানান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের কেউ প্রতারণাচক্রের এসব সদস্যদের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসায়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা ব্যবসাসংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্রের খসড়া তৈরি করতে বলে এবং ওই চুক্তিপত্রের খসড়াটি তার দেশে ই-মেইল এর মাধ্যমে পাঠাতে বলে। এরপর চুক্তিপত্রটি যাচাই-বাচাইয়ের নাম করে কালক্ষেপণ করে। এসময়ের মধ্যে তারা ওই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির সঙ্গে কিছু সম্পর্ক গড়ে তোলে। আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে তারা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। তাদের বলে যে, তারা সাদা কাগজকে ডলারে রূপান্তর করতে পারে। ওই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী চাইলে টাকাকেও ডলারে রূপান্তর করে দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই ব্যবসায়ীকে ডলারের লোভে ফেলে প্রতারণা কার্যক্রম শুরু করে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক আরও বলেন, প্রতারকচক্রের সদস্যরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে একটি দুই প্রকোষ্ঠের বাক্স দেখায়। সেই বাক্সের মাধ্যমে টাকা রূপান্তর করে দেওয়ার জন্য এক হাজার টাকার নোট চায়। টাকা দেওয়া হলে সেটা বিশেষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওই বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়, বেরিয়ে আসে ভেতরের অপর প্রকোষ্ঠে গোপনে সংরক্ষণ করে রাখা এক হাজার ডলারের নোট। প্রলুব্ধ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাবিষ্ট থাকার মুহূর্তে তাকে আরও বেশি পরিমাণ টাকা ডলারে রূপান্তরের প্রস্তাব দেয় তারা। দেশি ব্যবসায়ী সে পরিমাণ টাকা দিলে এজন্য তারা কিছুটা সময় চেয়ে নেয়। এই সুযোগে সটকে পড়ে।