• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

কুড়িগ্রামে আবারো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

  • প্রকাশিত ১১:২৫ সকাল জুলাই ২৫, ২০১৯
কুড়িগ্রাম
বসতঘর ডুবে যাওয়ায় নৌকাতেই সংসার পেতেছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। ঢাকা ট্রিবিউন

পানি হ্রাস পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হলেও গত দুইদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৯ উপজেলার ৮ শতাধিক গ্রামের মানুষ। এছাড়া নদী ভাঙনে সর্বশান্ত হতে শুরু করেছেন অনেকেই

ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ কুড়িগ্রাম জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ৪/৫ দিনে নদ-নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হলেও দুই দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৯ উপজেলার ৮ শতাধিক গ্রামের মানুষ। একই সঙ্গে নদীভাঙনে গৃহহারা হতে শুরু করেছে মানুষ।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, ২৫ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের  পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকার গ্রামগুলো। কয়েকদিন ধরে পানি কমতে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঁধের রাস্তা থেকে অনেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করলেও নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। ফলে তারা আবারও বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, তার ইউনিয়ন আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত দুই তিন দিনে কিছু বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেলেও আবারও সেসব বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইউনিয়নের সবকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

ব্রহ্মপুত্র তীরে অবস্থিত কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় তার এলাকার চরাঞ্চলগুলোর বসতবাড়িতে আবারও পানি উঠতে শুরু করেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এসব পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে জানান এই চেয়ারম্যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “দু’দিন ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও আজ  বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত কিছুটা বেড়ে শুক্রবার থেকে তা আবারও কমতে শুরু করবে।”

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় প্রায় ৯ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর থেকে পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় এখনও অনেকে উঁচু রাস্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বন্যার পনি প্রবেশ করায় ১ হাজার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৩৩৩ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়াও নদী ভাঙনে ১৮৫৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।