• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২২ দুপুর

কেন খুন হলেন রিফাত?

  • প্রকাশিত ১২:১৬ দুপুর জুলাই ২৬, ২০১৯
রিফাত শরীফ
বরগুনায় নিহত রিফাত শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

একাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ঘটনার বিশ্লেষণে ভিন্নমাত্রা এনেছে

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পর তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। ঘটনার আকস্মিকতা কাটতে না কাটতেই তড়িঘড়ি করে মামলার প্রধান সাক্ষীকে আসামি করা এবং গ্রেপ্তার করায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রশ্ন।

একাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ঘটনার বিশ্লেষণে ভিন্নমাত্রা এনেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ছোট এই শহরে উঠতি যুবক ও কিশোরদের এই গ্রুপ কীভাবে একটি প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস পেল?

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছিল ব  রগুনার আলোচিত ‘বন্ড বাহিনী’। এই গ্রুপের সদস্যরা সরাসরি যুক্ত ছিল মাদক ব্যবসায়। নিহত রিফাত ও নয়ন বন্ড ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসময় একই গ্রুপের সদস্য থাকলেও পরে নিজেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অনুসন্ধানে, ষড়যন্ত্র করে একজন অন্যজনকে মাদক দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও বেরিয়ে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদক মামলাসহ রিফা্তের বিরুদ্ধে ৪টি ও নয়ন বন্ডের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে বরগুনা সদর থানায়। 

পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মাদকের মামলা থাকা সত্ত্বেও বরগুনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় নয়ন বন্ড বা রিফাত শরীফের নাম নেই।

মিন্নির সংশ্লিষ্টতা

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বিরুদ্ধে তার স্বামীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর এই অভিযোগ প্রমাণের উদ্দেশ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দেখছে পুলিশ। পু   লিশি রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে পুলিশ মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এই জবানবন্দি দেওয়ার পরদিন শনিবার (২০ জুলাই) জেলগেটে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এবং বুধবার তার আইনজীবী দাবি করেছেন, পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে  চাপে পড়েই জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, রিফাতের বাবা আবুদল হালিম শরীফ দুলাল গত ১৩ জুলাই বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং পরদিন ১৪ জুলাই বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে মানববন্ধন করে মিন্নিকে ‘পরিকল্পনাকারী’ উল্লেখ করে তার গ্রেপ্তার দাবি করেন। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ। ’বরগুনার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে সুনাম দেবনাথও বক্তব্য রেখেছিলেন।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনমানববন্ধনে দুলাল অভিযোগ করেন, ‍“আমার ছেলে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় বরগুনা হাসপাতালে যায়, তখন মিন্নি তার হাতে থাকা পার্স ও পায়ের জুতা নিয়ে ব্যস্ত ছিল।”

তবে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বরগুনা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় ২৬ জুনের বর্ণিত তথ্যে দেখা যায়, রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন মিন্নি। সেখানে মিন্নির মুঠোফোন নম্বরও লেখা রয়েছে। রেজিস্ট্রারে থাকা তথ্যানুযায়ী রিফাতকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের সময় হাসপাতালে আনা হয় এবং শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে ১০ টা ৪০ মিনেটেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওইসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “মিন্নিই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রিফাতের ঘাড়, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গিয়েছিল। আমাদের এখানে তাকে ১০ মিনিটের মত রাখা হয়েছিল। দ্রুততার সঙ্গে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। রিফাতের শরীরের কাটা জায়গাগুলো থেকে তখনও রক্তঝরা বন্ধ হয়নি।”

ঘটনার দিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত কর্মীরা জানিয়েছেন, গুরুতর আহতাবস্থায় রিফাতকে বরিশালের উদ্দেশ্যে মিন্নির বাবার ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময় মিন্নি সঙ্গে যেতে চাইলে সেখানে থাকা রিফাতের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন বাধা দেন। জন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রইসুল আলম রিপনের ছেলে। পরে রিফাতের অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে নিজের মোটর সাইকেলে বরিশালে যান জন। 

অভিযোগ রয়েছে, বিকেলে রিফাত মারা যাওয়ার পর মিন্নির বাবাকে লাঞ্ছিত করেন জন ও  তার সঙ্গীরা। রিফাতের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর মিন্নি ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে আবারও লাঞ্ছিত করা হয়। এনমকী, মিন্নিকে রিফাতের লাশও দেখতে দেওয়া হয়নি।

এপ্রসঙ্গে মিন্নির বাবার প্রশ্ন, ছেলে আহত হওয়ার খবর শুনেও রিফাতের বাবা কেন বরগুনা কিংবা বরিশাল হাসপাতালে গেলেন না?

হত্যাকারীদের হাত থেকে রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টায় মিন্নি। ছবি: সংগৃহীততদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে হত্যাকাণ্ডের আগেরদিন (২৫ জুন) মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় যান।

এদিকে, গত ২৪ জুন নয়ন বন্ড গ্রুপের অন্যতম সদস্য হেলাল সিকদার তার অসুস্থ বড় বোন পারুলকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার সময় আগে থেকেই শহরের পৌর মার্কেটের নিচে থাকা রিফাত হেলালের মুঠোফোনটি ফোনটি নিয়ে যান। গ্রুপে রিফাত হেলালের চাইতে প্রভাবশালী হওয়ায় মুঠোফোন দেখতে চাওয়ার সময় খুব একটা আপত্তি করেননি হেলাল। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানালেও ফিরিয়ে দেননি রিফাত। 

ধারণা করা হচ্ছে, সদ্য গ্রুপ ত্যাগ করা রিফাত নয়ন বন্ড গ্রুপের ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপের কর্মকাণ্ড দেখতে বা হেলালকে নয়নের গ্রুপ বদল করাতেই মুঠোফোনটি নিয়েছিলেন।

বিষয়টি দলনেতা নয়নকে জানান হেলাল। মিন্নিকে কল করে হেলালের ফোন নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে সেটি ফেরত চান নয়ন। রিফাত বাসায় ফিরলে এনিয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং মিন্নি মুঠোফোনটি রিফাতের কাছ থেকে নিয়ে নেন। 

তবে, মিন্নির বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করছে, সেদিন কথা কাটা-কাটির সময় রিফাত মিন্নিকে মারধর করেন। এরই জেরে মিন্নি নয়ন বন্ডের মাধ্যমে স্বামীকে ‘শায়েস্তা করার’ পরিকল্পনা করেন। ২৫ জুন দিনের কোনো একসময় মিন্নি হেলালের মুঠোফোনটি নয়নের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের দাবির সত্যতা যাচাই করতে পশ্চিম বরগুনায় হেলালের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। 

হেলালের স্ত্রী জানান, মুঠোফোন নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছিল। ২৪ তারিখ বেলা ১১ টার দিকে মুঠোফোন নিয়ে ওইদিনই বিকেল ৪ টার দিকে রিফাতই এসে সেটি ফেরত দিয়ে যান। তার স্বামীর পেশার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হেলাল ঢাকা থেকে তৈরি পোশাক এনে বরগুনা পৌর শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করেন। 

হেলাল সিকদারের বড় বোন পারুলও জানান, রিফাত ওইদিন বিকেলেই হেলালের মুঠোফোনটি ফেরত দিয়ে দেন।

এদিকে, পুলিশের আরেকটি সূত্রে জানিয়েছে, মিন্নি রিফাতকে ‘শায়েস্তা করার’ পরিকল্পনা করলেও হত্যাপরিকল্পনার বিষয়ে তার জানা ছিল না।

একইসঙ্গে, নয়ন বন্ডও হত্যাপরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকে জানতেন না বলে ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। নয়ন বন্ডের নেতৃত্বাধীন ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ ‘০০৭’- এর কথপোকথনে দেখা গেছে, আগেরদিন রিফাত ফরাজী একটি রামদার ছবি পোস্ট করে গ্রুপের সদস্যদেরকে সম্ভব হলে এই অস্ত্রসহ কলেজের সামনে থাকতে বলে। ঘটনার সময় রিফাত ফরাজী ক্যালিক্স একাডেমির সামনে থেকে পূর্বদিকে দৌড়ে গিয়ে দু’টি রামদা নিয়ে এসে একটি মাটিতে রাখে অন্যটি দিয়ে নিজেই কোপানো শুরু করে। কিছুক্ষণ পর নয়ন রিফাত ফরাজীর হাতের রামদাটি নিয়ে কোপাতে থাকে।

ঘটনার পর মিন্নি তার পরিবারের সদস্যদেরকে জানিয়েছেন, নয়নের অন্যতম সহযোগী দুই ভাই রিফাত ও রিশান ফরাজী নিহত রিফাতের মারধর এবং কোপানের সময়ে আগের কোনো একটি ঘটনায় তাদের মাকে গালি দেওয়ার ক্ষোভ ঝাড়ছিল।

রিশান-রিফাত ফরাজিদের ক্ষোভ 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিফাত ও রিশান ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রীর বোনের ছেলে। দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহার খুকি তাদের খালা হলেও তারা তাকে রক্ত ‘মা’ বলে ডাকতো। চলতি বছরের ৫ মে তুচ্ছ কারণে নিহত রিফাতের সঙ্গে শামসুন্নাহারের কথা কাটা-কাটি হয়।

রিফাত ও রিশান ফরাজি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনমামলায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
বুধবার বরগুনা প্রেসক্লাবে করা এক সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর পুলিশের তদন্তে অনাস্থা জানিয়ে পিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।

জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হলে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এসব কিছুই শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে সেভ করার জন্য আমাদের বলি দেওয়া হচ্ছে।”

এই অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুমন দেবনাথ বলেন, “মিন্নির বাবা কী বলছেন, আমি সেটা জানি না। তবে এধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও অমূলক। এবিষয়ে আমি কিংবা আমার পরিবারকে জড়িয়ে মন্তব্য করা মূর্খতা। আমার মনে হয়, প্রতিপক্ষদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

পরদিন সকালে সংসদ সদস্যের বরগুনা সদর রোডের ব্যক্তিগত ল’ চেম্বারে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, “এর কোনো অর্থ নেই। আমাকে ঘায়েল করতে নিশ্চয়ই পেছনে কেউ আছে।”

মিন্নির পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর পেছনে তার বা তার ছেলের কোনো প্রভাব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ছেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘‘এরকম নির্মম একটা ঘটনা, এমন সেন্টিমেন্ট থাকতেই পারে।’’

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন সুনাম দেবনাথ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘‘আমরা বরগুনার আইনজীবীরা রিফাত শরীফ হত্যাকারীদের কোনো আইনি সহায়তা দেব না, একজনকেও না। আশাকরি আমার এই প্রস্তাবের সঙ্গে সকল আইনজীবীরা একমত হবেন।’’

এবিষয়ে বরগুনা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর বিষয়ে আইনজীবী সমিতির কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। সুনাম  দেবনাথ ও আরেকজন আইনজীবী সঞ্জীব এসব কথা বলে আমাদের বারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। বারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তীতে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

গত শনিবার (২০ জুলাই) কারাগারে মেয়ের সঙ্গে দেখা করে এসে মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের চাপে তার মেয়ে জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছে।

ওইদিন বিকেলেই মিন্নির আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হন অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম। কিন্তু রাতে তাকে নিজের চেম্বারে ডেকে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সংসদ সদস্য। যদিও বিষয়টিকে অনৈতিক আখ্যা দিয়েছিলেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।