• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৭ রাত

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ছাত্রনেতা কারাগারে

  • প্রকাশিত ০১:০৭ দুপুর জুলাই ২৬, ২০১৯
সুদীপ্ত লক্ষ্মীপুর
অভিযুক্ত সুদীপ্ত পাল ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযুক্ত ছাত্রনেতা সদর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক

লক্ষ্মীপুরে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা সুদীপ্ত পাল (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ধর্ষণ মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। 

এদিন দুপুরে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সুদীপ্ত পালের বাড়ি লক্ষ্মীপুর পৌরসভা এলাকায়। তিনি সদর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রী ও তার পরিবার শহরের টাউন হল এলাকার সুদীপ্ত পালের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে ২০১৬ সাল থেকে ভাড়া থাকতেন। একই সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে শহরের মদিন উল্যাহ হাউজিংয়ের একটি বাসায় বন্ধুর জন্মদিনে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে সুদীপ্ত। ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয় ক্যামেরায়।

এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ৫ জুলাই শহরের জোবেদা নামীয় একজনের বাসায় তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান ওই ছাত্রী। পরে পারিবারিকভাবে কুমিল্লার একটি ছেলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে ঠিক করা হয়। 

বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত সুদীপ্ত মুঠোফোনে ওই ছেলেকে হুমকি দেন এবং আপত্তিকর ভিডিও তাকে পাঠান। ভেঙে যায় বিয়ের কথাবার্তা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় সুদীপ্ত পালের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সুদীপ্ত পালের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।