• রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস, বাঘ সম্পর্কে জেনে নিন কয়েকটি তথ্য

  • প্রকাশিত ০৫:৩৫ সন্ধ্যা জুলাই ২৯, ২০১৯
বাঘ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

একশ’ বছর আগে পৃথিবীতে বাঘ ছিল এক লাখেরও বেশি। তবে বর্তমানে সে সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০০টিতে দাঁড়িয়েছে।

আজ  ২৯ জুলাই, বাঘ রক্ষার শপথ নিয়ে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। প্রতি বছরের মতো বাংলাদেশও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাঘ বাড়াতে শপথ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি’ স্লোগানে আগামী ৩১ জুলাই, বুধবার বাঘ দিবস পালন করবে।

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক বাঘ সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য-  

এক.  

বাংলাদেশ বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জরিপ মোতাবেক সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। তিন বছর পর ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়েছে।

দুই. 

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের তথ্যমতে, একশ’ বছর আগে পৃথিবীতে বাঘ ছিল এক লাখেরও বেশি। তবে বর্তমানে সে সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০০টিতে দাঁড়িয়েছে।

তিন. 

বর্তমানে পৃথিবীর মাত্র ১৩টি দেশে বাঘের অস্তিত্ব বজায় রয়েছে। এই ১৩টি বাঘ সমৃদ্ধ দেশকে বলা হয় Tiger Range Country (TRC)। দেশগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান, নেপাল ও রাশিয়া। 

চার. 

বাঘের ৮টি উপ-প্রজাতির মধ্যে বালিনীজ টাইগার, জাভানীজ টাইগার ও কাস্পিয়ান টাইগার ইতোমধ্যে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 

পাঁচ. 

বর্তমানে বাঘের (Penthera tigris) ৫টি উপ-প্রজাতির  (sub-species) কোনো রকমে টিকে আছে। এগুলো হল, বেঙ্গল টাইগার, সাইবেরিয়ান টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার এবং ইন্দো-চায়না টাইগার। 

ছয়. 

২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত টাইগার সামিট ও ২০১৪ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে ১৩টি বাঘসমৃদ্ধ দেশ ২০২২ সালের মধ্যেই নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার চুক্তি করে। অর্থাৎ এ চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে ২০২২ সালে পৃথিবীতে বাঘের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে।

সাত. 

বাংলাদেশের সর্বশেষ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যেই সুন্দরবনে বাঘের ক্যারিং ক্যাপাসিটি (সুষম ধারণক্ষমতা) অর্জনের চেষ্টা করছে বন বিভাগ। টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের ক্যারিং ক্যাপাসিটি ২৫০টি।

আট. 

বাঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার এই প্রবণতা চলমান থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

নয়. 

বাংলাদেশে বাঘ নিধন ও হরিণ শিকার বন্ধের জন্য ২০১২ সালে অধিকতর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের ধারা ৩৬ অনুযায়ী, বাঘ শিকার বা হত্যা জামিন অযোগ্য অপরাধ। চূড়ান্ত বিচারে বাঘ শিকারী বা হত্যাকারী সর্বোচ্চ ৭ বছর সর্বনিম্ন ২ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা ১ লক্ষ থেকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


ঢাকা ট্রিবিউনে আরো পড়তে পারেন - 

বাঘ বেড়েছে সুন্দরবনে

বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন তানিয়া খান

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বঙ্গবন্ধু পদক পেলেন যারা