• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১৭ সন্ধ্যা

ফেরিতে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবি

  • প্রকাশিত ০৬:১৪ সন্ধ্যা জুলাই ২৯, ২০১৯
তিতাস মা
তিতাসের মায়ের আহাজারিঢাকা ট্রিবিউন

রাজধানীতে না গিয়ে তিতাসের মরদেহ নিয়ে ২৬ জুলাই ভোরে বাড়িতে ফিরে আসে পরিবার

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসার পথে ফেরির জন্য ঘাটে অপেক্ষা করে চিকিৎসা নেওয়ারও সুযোগ পায়নি ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নড়াইলের তিতাস ঘোষ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফেরিতে উঠলেও ততক্ষণে নিভে যায় তিতাসের প্রাণপ্রদীপ।

এঘটনায় সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১ টায় নড়াইলের কালিয়া পাইলট স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেছেন তিতাসের শিক্ষক ও সতীর্থরা। তিতাসের মৃত্যুর জন্য ফেরিঘাটে ভিইপি যাত্রীর জন্য অপেক্ষাকে দায়ী করে এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করা হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাত ৮ টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের আউড়িয়া মোড়ে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক মাথা ও বুকে মারাত্মক আঘাত পায় তিতাস। আহতাবস্থায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতাল নেওয়া হলে সেখান থেকে পাঠানো হয় খুলনায়। খুলনা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে পরদিন বিকেলে রাজধানীতে নেওয়া হচ্ছিল তিতাসকে। রাত ৮ টার দিকে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছে মুমূর্ষু তিতাসকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। এরপর এক ভিআইপির জন্য সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে সেসময় ঘাটে থাকা ‘কুমিল্লা’ নামের ফেরিটি। তিতাসের পরিবার ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চিকিৎসকসহ সকলে অনুরোধ করেও ফেরি ছাড়েনি কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এটুআই প্রকল্পের এক যুগ্ম সচিব পিরোজপুর থেকে রাজধানীতে যাচ্ছিলেন। তার গাড়ির জন্য সাড়ে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করে রাত সাড়ে ১১টায় ফেরি ছাড়ে। রাত  ১২টার দিকে ফেরিতেই মারা যায় তিতাস। এ অবস্থায় রাজধানীতে না গিয়ে তিতাসের মরদেহ নিয়ে ২৬ জুলাই ভোরে বাড়িতে ফিরে আসে পরিবার।

প্রসঙ্গত, তিতাস কালিয়া পৌরসভার বড়কালিয়া এলাকার মৃত তাপস ঘোষের ছেলে এবং কালিয়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। জন্মের পরপরই বাবাকে হারিয়েছিল সে। তিতাসসহ মোটরসাইকেলের আরেক আরোহী বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সঙ্গে নড়াইলের কালিয়া থেকে যশোরের কৈখালী দেবীনগর গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় আহত অর্নিবান ঘোষ সনু (৩৫) নামে আরেকজন খুলনায় চিকিৎসাধীন। 

মেয়ে তানিশা ঘোষ আর ছেলে তিতাসকে ঘিরেই ছিলো তাদের মা সোনামুখীর সংসার।

নিহত তিতাসের মা  সোনামুখী বলেন, ফেরিতে সাড়ে ৩ ঘণ্টা দেরি না হলে আমার ছেলেটা বেঁচে থাকতো। ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রশাসন ও ফেরি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন তিনি।

তিতাসের বোন তানিশা বলেন, আমরা পুলিশের কাছে গিয়েছি। ফেরি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলার পরেও তারা ফেরি ছাড়েনি। আমরা বুঝতে পেরেছি, “মানুষের জীবনের চেয়ে ভিআইপি বড়”।