• মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫০ রাত

৩৫ বিঘা কৃষিজমি ইটভাটার দখলে, দিশেহারা কৃষকেরা

  • প্রকাশিত ০৭:৫১ রাত জুলাই ২৯, ২০১৯
নরসিংদী
দখল করে রাখা কৃষি জমি। ঢাকা ট্রিবিউন

এই দুই বছর কৃষকেরা কোনো ফসল ফলাতে পারেননি, দুই বছরে ভাড়া বাবদ একটি টাকাও দেওয়া হয়নি তাদের। 

নরসিংদীর পলাশে আব্দুল হাই নামে এক ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ বিঘা কৃষিজমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জমি ভাড়ার ১০ বছর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও জমির দখল না ছাড়ায় চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। ইটভাটার অবৈধ দখল থেকে জমি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এই ইটভাটার অবস্থান পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর এলাকায়।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, কৃষকদের সাথে বার্ষিক ১৯ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে ১০ বছরের চুক্তিতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর এলাকায় কৃষিজমিতে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন আব্দুল হাই নামে এক ব্যক্তি। ২০১৭ সালে এ চুক্তির ১০ বছর মেয়াদ শেষ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১০ বছর পর কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত থাকলেও ভাটা মালিক আব্দুল হাই কৃষকদের জমি ফিরিয়ে না দিয়ে গত দুইবছর ধরে ভাটা বন্ধ রাখেন। এই দুইবছর কৃষকেরা কোনো ফসল ফলাতে পারেননি, দুইবছরে ভাড়া বাবদ একটি টাকাও দেওয়া হয়নি কৃষকদের।  

কৃষদের অভিযোগ,জমি ফিরে পেতে ভাটার মালিক আব্দুল হাই এর কাছে দাবি জানালে উল্টো হুমকি দিয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জমি ফিরে পেতে পলাশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন তারা। 

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল সালাম, মামুন মিয়া, ফরমান আলী, আব্দুল আজিজ, আব্দুর রহমানসহসহ ৮/১০ জন কৃষক জানান, বার্ষিক ভাড়ার বিনিময়ে আমাদের ৩৫ বিঘা জমি ১০ বছরের চুক্তিতে আব্দুল হাই এর ইটভাটায় দেওয়া হয়। চুক্তির ১০ বছর পার হলেও প্রায় দুই বছর ধরে ভাড়াও দিচ্ছেন না, আবার জমিও ফিরিয়ে দিচ্ছেন না। আমাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন এসব জমি। উপার্জন না হওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আব্দুল হাই বলেন, “আমি ১০ বছরের চুক্তিতে ইটভাটা চালিয়েছি। কৃষকদের কোনো পাওনা আমার কাছে বকেয়া ছিল না। পরে আমার শ্যালক বাদল সরকারের কাছে ভাটা বিক্রি করে দিয়েছি, সে ভাটা বন্ধ করে রেখেছে। এটা সম্পূর্ণ তার বিষয়। এটা আমার কোনো বিষয় নয়।” 

এবিষয়ে পলাশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন বলেন, “চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুইবছর পরও কৃষকরা জমি ফেরত পাচ্ছেন না, ভাড়াও পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ বিভাগকে বলা হয়েছে।”