• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৫ সকাল

রিফাত হত্যা মামলা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মিন্নির

  • প্রকাশিত ০৫:৪১ সন্ধ্যা জুলাই ৩১, ২০১৯
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ঢাকা ট্রিবিউন

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করেছেন

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন।

৩১ জুলাই, বুধবার বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নি এ আবেদন জানান। 

এবিষয়ে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, “সকল আসামির সাথে মিন্নিকে আদালতে হাজির করেছিলো। আদালতে মিন্নি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করেছেন। সেইসাথে মামলার মূল নথি জজ আদালত থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। মূল নথি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসলে মিন্নির পরিবারের সাথে কথা বলে জবানবন্দি প্রত্যাহারের শুনানি করা হবে।”

কী কারণ দেখিয়ে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মামলাটি স্পর্শকাতর, তাই কারণগুলো এই মুহূর্তে আমরা বলতে চাচ্ছি না।”

এর আগে ৩১ জুলাই, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্নিসহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ১৫ আসামির মধ্যে ১৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী আগামী ১৪ আগস্ট পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে আসামিদের পুনঃরায় জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এছাড়া মামলার অপর আসামি রাতুল সিকদার জয়ের বয়স কম হওয়ায় আদালত তাকে আগেই সেভহোমে পাঠিয়েছেন। 

আদালতে হাজির করা ১৪ আসামি হচ্ছেন, এজাহারভুক্ত আসামি মো. হাসান, জয় চন্দ্র সরকার (চন্দন), ওয়ালি উল্লাহ অলি (অলি), রেজোয়ান আলী খান (টিকটক হৃদয়), আল কাইয়ুম (রাব্বি আকন), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত (রিফাত ফরাজী) ও রাশিদুল হাসান রিশান (রিশান ফরাজী)। এছাড়া হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, মো. সাগর, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল হাসান সাইমুন, মো. আরিয়ান হোসেন (আরিয়ান শ্রাবন) ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। পরে রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। 

তবে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে মুসা, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদার এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।