• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৮ রাত

ষষ্ঠবারের মতো বাংলাদেশে দেখা গেল বিরল এই সাপ!

  • প্রকাশিত ০৬:০৯ সন্ধ্যা আগস্ট ১, ২০১৯
বালুবোয়া সাপ
বগুড়া সদর উপজেলায় বালুবোয়া নামের বিরল প্রজাতির এক সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে।ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

সাধারণত ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সাপটি পাওয়া যায়।

বগুড়া সদর উপজেলায় বালুবোয়া নামের বিরল প্রজাতির এক সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। সাপটি বাংলাদেশে দেখা ষষ্ট রেকর্ড বলে উল্লেখ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণি বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান।

গতকাল বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রাম থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। 

শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বাদী সংগঠন 'তীর’এর সভাপতি আরাফাত রহমান জানান, মহিষবাথান গ্রামের এক কৃষক বুধবার বিকেলে তার পটলক্ষেতে কাজ করছিলেন। এসময় তিনি সাপটি দেখে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এরপর সেটিকে অজগরের বাচ্চা মনে করে আটকে রাখেন। 

আরাফাত আরও জানান, খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শেখেরকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) কামরুল হাসান ডালিম সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্টটি দেখার পর তিনি (আরাফাত) সাপটি না মারতে অনুরোধ করেন। পরে রাজশাহীর বন্যাপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলমের অনুমতিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি সাপটি নিজ জিম্মায় নেন।  

সাপ গবেষক আবু সাঈদ এটিকে Rough Scaled sand boa বা common sand boa বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে কয়েকজন গবেষকের সঙ্গে কথা বলে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি common sand boa, যার বাংলা নাম বালুবোয়া বা বালুবোরা। এটিকে বেবি পাইথনও বলা হয় যার বৈজ্ঞানিক নাম Gongylophis conicus। 

'তীর’এর সভাপতি আরও বলেন, বালুবোয়া সাপ দেখতে অনেকটা অজগর সাপ ও শঙ্খচূড় সাপের মতো। এটির লেজ মোটা ও ভোঁতা আকৃতির। লম্বায় ২৩ ইঞ্চি। সাপটি বিলুপ্ত প্রজাতি যা বাংলাদেশে দেখা যায় না বললেই চলে। সাধারণত ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এটি পাওয়া যায়।

বালুময় নদী এলাকায় বালুবোয়া সাপ বাস করে। বাংলাদেশে এই সাপের বিস্তৃতি নিয়ে কোনো রেকর্ড নেই। সাপটির পেটে দুই জায়গায় জখম রয়েছে। আহত হওয়ায় আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি চিকিৎসক হেমায়েতুল ইসলাম আরিফের পরামর্শে সাপটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান এটিকে বাংলাদেশে দেখা ষষ্ট রেকর্ড বলে উল্লেখ করেছেন। প্রাণিবিজ্ঞানী ড. আলি রেজা খান সুন্দরবন ও যমুনা নদী এলাকায় এই সাপের উপস্থিতির সম্ভবনার কথা জানিয়েছেন। 

'তীর’এর উপদেষ্টা সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আরিফুর রহমান জানান, বাংলাদেশের একটি বিরল প্রজাতি সাপ বালুবোয়া। কীভাবে এটি বগুড়ার মহিষবাথান গ্রামে এলে তা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন। 

তীর’এর সভাপতি আরাফাত রহমান বলেন, এ সাপটি ডিম দেয় না। সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে।  সাধারণত নিশাচর প্রকৃতির হলেও দিনেও চলাচল ও শিকার করে। বিভিন্ন পোকা, ব্যাঙ, ইঁদুরসহ ছোট প্রাণী খেয়ে থাকে। সাপটি একটি নির্বিষ ও শান্ত স্বভাবের। তাই এটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সাপটি সুস্থ হলে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।