• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ সকাল

দেড় বছরের শিশুকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

  • প্রকাশিত ০১:৫৯ দুপুর আগস্ট ৫, ২০১৯
লক্ষ্মীপুর অপহরণ
লক্ষ্মীপুরে দেড় বছরের শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন

অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও সন্তানের সন্ধান পাননি বাবা-মা

লক্ষ্মীপুরে বাবা-মায়ের শোবার ঘর থেকে মিনহাজ নামে দেড় বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি  করছে দুর্বৃত্তরা। মাঝরাতে টিনশেড ঘরের দরজা খুলে শিশুটিকে অপহরণের পর সকালে মুঠোফোনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি। 

সোমবার (৫ আগস্ট) ভোররাতে সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসি। শিশুটিকে উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার ড. এইচ এম কামরুজ্জামান। অপহৃত মিনহাজের বাবা মো. মামুন হোসেন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় এলাহী বক্সের মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে প্রতিদিনের মতো সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন রাজমিস্ত্রী মামুন ও তার স্ত্রী কোহিনুর। ঘরের দরজাও যথারীতি বন্ধ ছিল। ভোররাতে ঘুম ভেঙে সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না ওই দম্পতি। ঘরের দরজাও খোলা ছিল। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও মিনহাজের সন্ধান পাননি তারা। 

দুর্বৃত্তরা কোহিনুরের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও নিয়ে যায়। ভোর ৫ টার দিকে ওই মুঠোফোনে অন্য একটি মুঠোফোন থেকে কল করলে অন্যপ্রান্ত থেকে সন্তানকে পাওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। 

খবর পেয়ে সোমবার সকালে ওই বাড়িতে যান লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন, সদর থানার ওসি আজিজুর রহমান মিয়া, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশু প্রমুখ।

এসময় অপহৃত শিশুর বাবা সাংবাদিকদের জানান, “ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছিনা। অপহরণকারীরা আমার স্ত্রীর মুঠোফোনটিও নিয়ে গেছে। পরে ওই মুঠোফোনে কল করলে থেকে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তবে তারা নিজেদের পরিচয় দেয়নি।” ছেলেকে ফিরে পেতে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শিশুটির মা কোহিনুর বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরের সম্পত্তি নিয়ে বাক-বিতণ্ডা ছাড়া আর কারও সঙ্গে বিরোধ নেই। তবে এ অপহরণের ঘটনায় মিনহাজের দাদা জড়িত কিনা এ বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, “দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে তাদের জানাশোনা লোকজনই এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।”