• বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

সুনামগঞ্জ থেকে নিখোঁজ সাংবাদিক মুশফিকুর উদ্ধার

  • প্রকাশিত ১০:৪৫ সকাল আগস্ট ৬, ২০১৯
সাংবাদিক
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গৌবিনপুর গ্রাম সংলগ্ন সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মুশফিকুর রহমান গুলশান বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন

রাজধানীর গুলশান থেকে অপহৃত মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মুশফিকুর রহমানকে সুনামগঞ্জ থেকে অর্ধচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গৌবিনপুর গ্রাম সংলগ্ন সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা জানায়, মঙ্গলবার ভোরে গৌবিনপুর গ্রামের সড়কে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে দৌড়ানোর সময় গ্রামের মসজিদের ইমাম তাকে আশ্রয় দেয়। পরে এলাকাবাসী ও সদর থানার পুলিশকে খবর দেন। এরপর সদর  থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম ও মোহনা টেলিভিশের স্থানীয় প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জর সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেন। 

জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানিয়েছেন, অপহৃত সাংবাদিকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন।

মোহনা টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস বলেন, গৌবিনপুর গ্রামের একটি মসজিদ থেকে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।  

সাংবাদিক অপহৃত মুশফিকুর রহমান বলেন, ৩ আগস্ট  গুলশান গোলচত্বর  এলাকার হোটেলে তার মামার সঙ্গে নাস্তা খেয়ে তিনি মিরপুরের বাসায় যাওয়ার জন্য  একটি বাসে ওঠেন। ওঠে দেখেন বাসটি মিরপুরের নয়। এক পর্যায়ে বাসের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পর তার মুখে পানি জাতীয় পদার্থ  স্প্রে করে এর পর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি। জ্ঞান ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন তাকে  অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে একপর্যায়ে গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেয়। পানি খেতে চাইলে তাকে অপহরণকারীরা পানি খেতে দেয়নি। গত কয়েক দিনে তাকে কেক, পেয়ারা খেতে দিয়েছে। তার উদ্ধারের খবর পরিবারের কাছে জানানো হয়েছে। 

সুনামগঞ্জ সদর  থানার এসআই মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “মুশফিকুর রহমানকে গৌবিনপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপালে নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে যে তাকে কেউ অপহরণ করে এখানে ফেলে দিয়ে গেছে। মুশফিকুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার চরবোয়ালী ফকির বাড়ি। তিনি ঢাকার মিরপুর ১২ নং এলাকার  ৪ নং রোডের একটি বাসায় বসবাস করেন।”

উল্লেখ্য, ৩ আগস্ট বিকেলে মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মুশফিকুর রহমান ঢাকার গুলশান এলাকায় তার মামার সাথে দেখা করে বাসে চড়ে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন। এদিকে, গতকাল সোমবার তাকে উদ্ধারের দাবিতে সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন গণমাধ্যম কর্মীরা।