• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৪ দুপুর

শিক্ষককে ‘ফাঁসাতে’ মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের পর মাথা কেটে হত্যা

  • প্রকাশিত ০৬:১২ সন্ধ্যা আগস্ট ৬, ২০১৯
মাদ্রাসাছাত্র হত্যা চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় সহপাঠীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ৫ মাদ্রাসাছাত্র ইউএনবি

গত ২৪ জুলাই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আবির হুসাইনের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ

মাদ্রাসার শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রদের ‘দ্বন্দ্বের’ জেরে ‘শিক্ষককে ফাঁসাতে’ গিয়ে চুয়াডাঙ্গার মাদরাসাছাত্র আবির হুসাইনকে বলাৎকারের পর মাথা কেটে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থা ইউএনবি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মাদরাসার পাঁচ ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যে চাঞ্চল্যকর এহত্যাকাণ্ডের ‘রহস্য উন্মোচন’ হয়।

গ্রেপ্তার ছাত্ররা হলো- আনিসুজ্জামান (১৮), ছালিমির হোসেন (১৭), আবু হানিফ রাতুল (১৬), আব্দুর নুর ও মুনায়েম হোসেন।

সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে তারা মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদের দ্বন্দ্বের জেরে শিক্ষককে ফাঁসাতে এহত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল খালেক জানান, রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে আবির হুসাইনকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাদরাসার শিক্ষক তামিম বিন ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। ছাত্রদেরকে দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করাতেন এবং ঠিকমতো খেতে দিতেন না। এসবের প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেতো।

বিষয়টি নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন মাদরাসাছাত্র তাদের শিক্ষক তামিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সহপাঠী আবিরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কারণ আবিরকে গ্রাম থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছিলেন শিক্ষক তামিম।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৩ জুলাই রাত ৮টার দিকে ওই পাঁচজন আবিরকে গল্পের ছলে মাদ্রাসার পাশে আম বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে গুজব ছড়াতে আবিরের মাথা শরীর থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে মাথাটি পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

আদালতের বিচারক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ শেষে ওই পাঁচ মাদ্রাসা ছাত্রকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আবির হুসাইনের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দুদিন পর মাদরাসার অদূরের একটি পুকুর থেকে নিহত ছাত্রের মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।