• শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৫ রাত

পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে লাফিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৩:০৩ বিকেল আগস্ট ৭, ২০১৯
ডুবে মৃত্যু
প্রতীকী ছবি।

বুধবার কুমার নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়

মাগুরার শ্রীপুরে নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজের একদিন পর আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কুমার নদীতে নিখোঁজ হওয়া ওই আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মাগুরার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নাসিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীকোল বাজারে যায়। এসময় শ্রীকোল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। বাজারে পুলিশের উপস্থিতি দেখে তিনি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ পিছু নিলে আমিরুল বাজারের পাশের কুমার নদীতে লাফ দেন। নদীতে নামার পর আমিরুলকে দেখতে না পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অধীর কুমার বিশ্বাস বলেন, রাতে এলাকাবাসীর সহায়তায় নদীতে জাল টানা হলেও লাশ পাওয়া যায়নি। বুধবার সকাল ১০টার দিকে কুমার নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের ওপর হামলা করলেও পুলিশ আমিরুলকে ধাওয়া করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

শ্রীকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুতাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম বলেন, গত ১০ জুন শ্রীকোল গ্রামে হাফিজার মাস্টার এবং বাহারুলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২১৮ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা হয়। আমিরুলও ওই মামলার একজন আসামি।

মাগুরা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, “ফারুক ও সোহেল নামে চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ী বাজারে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে যাই। আমাদের দেখে কেউ দৌঁড়ে পানিতে লাফ দিয়েছে পড়েছে কি না তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু সেদিন স্থানীয় লোকজন হঠাৎ করেই আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।”

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, “এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। তবে আমিরুলকে আটকের জন্য ডিবি পুলিশ সেখানে যায়নি। তাকে আটক করতে হলে থানা পুলিশ যাবে।”