• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪১ দুপুর

মাকে মৃত দেখিয়ে প্রবাসী ছেলের সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা

  • প্রকাশিত ০৪:৫৫ বিকেল আগস্ট ৭, ২০১৯
খুলনা

মাকে মৃত দেখিয়ে দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর বিরুদ্ধে

খুলনার দৌলতপুর উপজেলায় মাকে মৃত দেখিয়ে দলিল জালিয়াতি করে সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ মুনির আক্তার মুরাদের বিরুদ্ধে।  

মুরাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে দৌলতপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীকে জমি বিক্রির ক্ষমতার্পণ (পাওয়ার অব এটর্নি) করেছেন।

এদিকে ওই ব্যবসায়ীর বাহিনীর হামলা ও হুমকিতে মা হাসিনা আক্তার ছুটছেন প্রশাসনের দ্বারেদ্বারে। তিনি তার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে ভরণ-পোষণ মামলাও করেছেন।

দৌলতপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন ক্ষমতার্পণ (পাওয়ার অব এটর্নি) দলিলটি করা হয়। ওই দলিলে তিনি পাওয়ারদাতা হিসেবে রয়েছেন। সেখানে তার পরিচিতির ক্ষেত্রে পিতার নামের পাশাপাশি মাতার নামও উল্লেখ করেছেন মৃত হিসেবে। পাওয়ার গ্রহীতা রয়েছেন জনৈক এস এম সাইফুল ইসলাম। দলিলে জমি বিক্রয় বায়না চুক্তি করা হয়েছে। অথচ ওই জমিতে মুরাদের জন্মদাতা মা হাসিনা আক্তার বসবাস করছেন। এছাড়াও জমির মালিকানা নিয়ে বড়ভাই আবুল কালাম আজাদ নিজেই বাদী হয়ে সৈয়দ মুনির আক্তার মুরাদের নামে আদালতে বছর খানেক আগে মামলাও করেন। এ অবস্থায় পাওয়ার গ্রহীতা জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এরই অংশ হিসেবে পাওয়ার গ্রহীতার লোকজন প্রতিনিয়ত হাসিনা আক্তারকে বাড়ি খালি করার জন্য শাসাচ্ছেন। 

হাসিনা আক্তার বলেন, “জমির মালিক আবুল কালাম আজাদ। তার কাছ থেকে জমি কেনার দেনা-পাওনা না বোঝানোর কারণে আজাদ বাদী হয়ে মুরাদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে  খুলনায় এসে মুরাদ জমি বিক্রি করার চেষ্টা করে। সফল হতে না পেরে অন্য একজনের সাথে জমি বিক্রির বায়না করার নামে পাওয়ার অব এটর্নি প্রদান করে। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার অফিস তদন্ত না করেই ওই দলিলটি গ্রহণ করায় বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে।” 

আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দলির তৈরির সময় তদন্ত করে দেখার নিয়ম রয়েছে। বায়না দলিল করার ক্ষেত্রে তদন্ত করা হলে দলিলটি করা অসম্ভব হত। কারণ তদন্তে আসলেই তারা জমিটি নিয়ে চলমান মামলা সম্পর্কে জানতে পারতেন। একই সাথে হাসিনা আক্তার যে জীবিত তাও তারা দেখতে পারতেন। তাহলে আমিও এভাবে হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে পড়ে থাকতাম না।”

দৌলতপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সাব রেজিস্ট্রার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “দলিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এসে আবেদন করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এ দলিলটি করার ক্ষেত্রে তদন্ত না করা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।”