• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

পৌর মেয়রের সরকারি গাড়িতে ফেনসিডিল, সন্দেহের তীর ছেলের দিকে

  • প্রকাশিত ১১:৫৪ সকাল আগস্ট ৮, ২০১৯
সরকারি গাড়ি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুস সাত্তারের সরকারি গাড়ি। ঢাকা ট্রিবিউন

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মেয়রের ছেলে রিপন

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুস সাত্তারের সরকারি গাড়ি গাজীপুরে র‌্যাবের হাতে ৫০২ বোতল ফেনসিডিলসহ ধরা পড়ায় নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় মেয়রের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রিপন জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার সময় মাদকাসক্ত রিপন গাড়িতে ছিলেন। তিনি সুযোগ বুঝে পালিয়ে গেছেন। আবার কেউ বলেছেন, তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল; কিন্তু বিশেষ তদবিরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, গোপনসূত্রে খবর পেয়ে গত ১ আগস্ট বিকালে ধাওয়া করে গাজীপুরের কোনাবাড়ির জরুন কুদ্দুসনগর এলাকা থেকে বগুড়ার শেরপুর পৌর মেয়র আবদুস সাত্তারের সরকারি গাড়ি থেকে ৫০২ বোতল ফেনসিডিল ও ৪৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। এসময় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতার ৩ ব্যক্তি হলেন। নুর আলম মুন্নাফ (২৫), নুরুজ্জামান নুরু (৩৫) ও আতিকুর রহমান (২৬)। এ ঘটনায় পরদিন র‌্যাবের নায়েক সুবেদার তফসির তরফদার কোনাবাড়ি থানায় একটি মাদকের মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের স্বপন হাড়িকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

শেরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি দাবি করেন, "দীর্ঘদিন ধরে এগাড়িতে হিলি সীমান্ত থেকে মাদক এনে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দুইবছর আগে সেলিম নামে এক যুবলীগ নেতা ওই গাড়ির ছবিসহ ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন। এব্যাপারে পৌরসভার মাসিক সভায় মেয়রকে সতর্ক করা হলেও কাজ হয়নি। ওই গাড়ি ফেনসিডিলসহ ধরা পড়ায় পৌরবাসীর মানসম্মান নষ্ট হয়েছে।" তিনি অবিলম্বে এঘটনার পিছনে থাকা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে নিজেকে শাহবন্দেগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে মেয়রের ছেলে রিপন গাড়িতে ফেনসিডিল পাচারের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, "তার বাবা মেয়র কাউন্সিলর ববিকে প্যানেল মেয়র না করায় তিনি এসব গুজব ছড়াচ্ছেন।"

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, "মেয়রের ছেলে রিপন মাদকাসক্ত বলে জানি। তবে তিনি ওই ঘটনায় জড়িত কী না সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।"