• মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

কারাগারের মতো অবরুদ্ধ হয়ে আছে কাশ্মীর

  • প্রকাশিত ০৪:১২ বিকেল আগস্ট ৮, ২০১৯
কাশ্মীর
ছবি: বিবিসি

বিশ্বের অন্যতম সামরিক অঞ্চল কাশ্মীরে কয়েকহাজার অতিরিক্ত সেনা রাস্তায় অবস্থান করছে

কাশ্মীরে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের যোগাযোগ ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সেখানে যেন কারাগারের মতো অবরুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, বিশ্মের অন্যতম সামরিক অঞ্চল কাশ্মীরে এখন হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা রাস্তায় অবস্থান করছে। সেখানকার মার্কেট, স্কুল কলেজ সবকিছু বন্ধ এবং চারজনের বেশি লোকের কোথাও সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ, এমনকি স্থানীয় নেতারাও আটক হয়ে আছেন।

কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি ওষুধের দোকান চালানো রশিদ আলী বলেন,  "পুরো উপত্যকা এখন একটি কারাগারের মতো"। তবে  "বাধা-নিষেধ উঠে গেলেই মানুষ রাস্তায় নামবে" বলে মনে করেন তিনি।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা অবলুপ্তি এবং এটিকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের কয়েকদিন পরে বড় ধরণের প্রতিবাদ হতে পারে আশঙ্কা থেকেই এমন সব ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত সরকার।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সংসদে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সমাপ্ত করার একটি প্রস্তাব পাস করেছে। ওই রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল: জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে বিভক্ত করার একটি বিলও পাস করানো হয়েছে।

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগে সম্পদের মালিকানা ও মৌলিক অধিকারের বিষয়ে নিজেরাই নীতি প্রণয়ন করতে পারতো কাশ্মীরিরা। এমনকি রাজ্যের বাইরের কারও সেখানে জমি কেনাও নিষিদ্ধ ছিলো।

পাশাপাশি, নিজেদের সংবিধান, আলাদা পতাকা ও আইন প্রণয়নের স্বাধীনতা ছিলোও তাদের। শুধু পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ছিলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

কাশ্মীরিরা মনে করছে বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মাধ্যমে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার কাশ্মীরের বাইরের মানুষদের সেখানে জমি কেনার অধিকার দিয়ে সেখানকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্যকেই পাল্টে দিতে চায়।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

"ভারত ফিরে যাও, কাশ্মীর আমাদের" এমন স্লোগান দেওয়া হয় সেখানে, যদিও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।