• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

সীমান্তে ১৪৪ ধারা জারি, আসছে না ভারতীয় গরু

  • প্রকাশিত ০১:১৩ দুপুর আগস্ট ৯, ২০১৯
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের একটি পশুর হাট। ছবি: ইউএনবি

‘এবার ভারত থেকে কোনো গরু আসছে না। কোরবানির জন্য দেড় লাখ দেশীয় গরু মজুদ আছে। আশা করি, এতে খামারিরা ভালো দাম পাবেন।’

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসলেও কুড়িগ্রামে জমে ওঠেনি কোরবানির পশুর হাট। ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে হাটগুলোতে। প্রচুর পরিমাণ দেশীয় গরু উঠলেও চড়া মূল্যের কারণে ক্রেতা ও পাইকাররা কিনতে পারছে না গরু। ফলে বেচাকেনা জমছে না পশুর হাটগুলোতে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সন্ধ্যার পর ভারতীয় সীমান্তে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সেই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া নজরদারির কারণে চোরাই পথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম বিজিবি ২২ ব্যাটেলিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জামাল হোসেন জানান, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্তের সালঝোর ও দিয়াডাঙ্গায় বটিকাটালের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে গরু আসে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ সন্ধ্যার পর সীমান্তে ১৪৪ ধারা জারি করার কারণে চোরাকারবারিরা অবৈধ পথে গরু নিয়ে আসতে পারছে না। এ ছাড়া বিজিবির কড়া নজরদারির কারণে অবৈধপথে গরু বা অন্যান্য মালামাল আসার সুযোগ নেই।

এদিকে কুড়িগ্রামের বাইরে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার পাইকাররা ভারতীয় গরু না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। তবে প্রাণি সম্পদ বিভাগের দাবি, কোরবানির জন্য জেলায় দেড় লাখ দেশীয় গরুর মজুদ আছে। ভারত থেকে গরু আমদানি না হলেও কোনো সংকট হবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ২৮টি পশুর হাটে গরু বেচাকেনা হচ্ছে। খামারির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। এ ছাড়াও ৪২ হাজার পশু পালনকারী বাজারে গরু নিয়ে আসছে। দেশীয় গরুর কোনো ঘাটতি নেই। বাজারও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে জেলার সীমান্তবর্তী ভুরুঙ্গামারী হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাট জুড়ে প্রচুর পরিমাণ দেশীয় গরু রয়েছে। ভারতীয় গরুর আধিক্য কম। ঈদ ঘনিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোরবানির জন্য পছন্দের গরু কিনতে আসছে না ক্রেতারা। দেশী এবং বাইরের পাইকারদের কারণে বেড়ে গেছে কোরবানির পশুর দাম। বেশিরভাগ খামারিদের কাছ থেকে গরু কিনে নিয়েছে পাইকাররা। এ ছাড়াও হাটগুলোতে এক পাইকার থেকে আরেক পাইকারের কাছে হাতবদল হচ্ছে গরু। ফলে মূল্য হয়েছে চড়া। মানুষ চড়া দাম শুনে কিনতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে এখন পর্যন্ত কুড়িগ্রামের পশুর হাটগুলো জমে ওঠেনি।

খামারি ছামাদ ও তাইজুল জানান, প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ করে হাটে গরু নিয়ে আসছি। গরুর পিছনে অনেক খরচ হয়েছে। ফলে দামও একটু বেশি হচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় ক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছে না। আমাদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে ভারতীয় গরু না আসায় সন্তুষ্ট দেশীয় খামারিরা।

গরু কিনতে আসা ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরী এলাকার আসাদ, মইনুল ও কাদের জানান, বাজারে প্রচুর দেশীয় গরু উঠেছে। ভারতীয় গরু না আসায় প্রভাব পরেছে দেশীয় গরুতে। চড়া দামের কারণে কিনতে পারছে না ক্রেতারা।

এ ছাড়াও হাট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতার চেয়ে পাইকারের সংখ্যা বেশি। পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ থেকে পাইকাররা এসেছেন গরু কিনতে। বাজারে ভারতীয় গরু না আসায় হতাশ তারা। খামারি ও দেশীয় গরুর দাম অনেক চড়া হওয়ায় তারা বাজারে অলস সময় কাটাচ্ছেন। গরু কিনতে পারছেন না।

লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ী এলাকার পাইকার মামুন বলেন, অনেক আশা নিয়ে চারজন পাইকারসহ এখানে গরু কিনতে এসেছি। কিন্তু হাটে ভারতীয় গরু কম। দেড়শ’র মত গরু উঠেছে। বাকি সব দেশীয় গরু। দামও চড়া। ঘুরে ফিরে দেখছি।

ভূরুঙ্গামারী পশু হাটের ম্যানেজার রাশেদুন্নবী লালু জানান, ভারতীয় গরুর আমদানি কমে যাওয়ায় হাটে প্রভাব পরেছে। সবাই বলছে দাম একটু চড়া। আশা করা যায় আগামী হাটগুলোতে ভারতীয় গরু আসলে দাম কমে যাবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, “এবার ভারত থেকে কোনো গরু আসছে না। কোরবানির জন্য দেড় লাখ দেশীয় গরু মজুদ আছে। আশা করি, এতে খামারিরা ভালো দাম পাবেন।”

তিনি বলেন, “দেশীয় গরুগুলোতে স্ট্রয়েট বা ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হয়নি। ফলে মাংস স্বাস্থ্যকর হবে।”