• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৫ সন্ধ্যা

মিথ্যা অপবাদে চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন

  • প্রকাশিত ০৯:০৫ রাত আগস্ট ৯, ২০১৯
নারী নির্যাতন
প্রতীকী ছবি

দেবরের মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেয়ার অপবাদে ওই গৃহবধূর উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায় অভিযুক্তরা

রংপুরে দেবরের মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেয়ার মিথ্যা অপবাদে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের পর তার চুল কেটে দিয়ে জুতার মালা পরিয়ে পুরো গ্রামে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকেলে গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড়মাস আগে ওই গৃহবধূর দেবরের মেয়ের বিয়ে হয়। তবে, গত ২১ জুলাই  ভুক্তভোগীর দেবরের মেয়েকে তালাক দেয় তার স্বামী। এদিকে এই ঘটনার পেছনে ওই গৃহবধূর ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন তার দেবরের পরিবারের সদস্যরা।

এরই জের ধরে বুধবার বিকেলে ওই গৃহবধূর দেবর, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা একত্রিত হয়ে ভুক্তভোগীকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে বেদম মারধর করেন। এক পর্যায়ে তাকে গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালান অভিযুক্তরা। পরে তার চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে তাকে সারা গ্রামে ঘোরানো হয়। এমন অমানবিক ঘটনা ঘটার পরও গ্রামের কোনো মানুষ এর প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে পুলিশী খবর দেন। পুলিশ এসে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ৬জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।  

এদিকে নির্যাতিতা মনিকা বেগম জানান তাকে যে মিথ্যা অপবাদে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে সে ঘটনার সাথে তার দুরতম কোন সর্ম্পক ছিলোনা তিনি বিষয়টি জানতেনা। তার পরেও তাকে পুরো ঘটনার জন্য দায়ি করে তার প্রতি অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি দায়িদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। এর প্রেক্ষিতে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল মতিন ও আব্দুল মোতালেবকে ওই রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ।  

এদিকে বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপটন বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সাথে জড়িতরা সম্পর্কে দেবর ও ভাবি। এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।" 

এ প্রসঙ্গে ওসি সুশান্ত কুমার সরকার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।"