• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

থানা হাজতে ধর্ষণ: আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছে তদন্ত কমিটি

  • প্রকাশিত ০৩:২৬ বিকেল আগস্ট ১৩, ২০১৯
ওসি উছমান গণি পাঠান
খুলনার জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠানের বিরুদ্ধে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ঢাকা ট্রিবিউন

সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য আরও ১৫ দিন সময় চেয়ে রেলওয়ে পাকশি বরাবর আবেদন করা হয়েছে

খুলনা জিআরপি থানা হাজতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ১৫ দিন সময়ে চেয়ে আবেদন করেছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নির্যাতিতা নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার (১৪ আগস্ট) আদালতে আবেদন করবেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

রেলওয়ে পাকশি জেলা কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মঙ্গলবার ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ঈদের কারণে সবাই ছুটিতে থাকায় তদন্তকাজে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। তাই সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য আরও ১৫ দিন সময় চেয়ে রেলওয়ে পাকশি বরাবর আবেদন করা হয়েছে। বুধবার খুলনায় গিয়ে নির্যাতিতা নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদনের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি তদন্ত কাজ শুরু করবেন।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা এক নারীকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে থানা হাজতে রাখেন। গভীর রাতে ওসি উছমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন ৩ আগস্ট তাকে ৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয় করা হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির সময় জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ওই নারী। 

এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির প্রধান করা হয় কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে। সদস্যরা হিসেবে রয়েছেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। 

এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করে। ৭ আগস্ট ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুলকে প্রত্যাহার করে পাকশি পাঠানো হয়। ৮ আগস্ট পাকশি ও ঢাকা থেকে গঠিত পৃথক ২টি তদন্ত টিমের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে কারা ফটকে নির্যাতিতার জবানবন্দি নেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট অভিযুক্ত ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার তদন্তকারী হিসেবে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।