• শনিবার, আগস্ট ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৮ রাত

নিখোঁজের চারদিন পর ওয়্যারড্রোবে মিললো গৃহবধূর মরদেহ

  • প্রকাশিত ১১:৩৯ সকাল আগস্ট ১৪, ২০১৯
গাজীপুরে

সোমবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে পাঁচটি পলিথিনে মোড়ানো টুকরো করা মরদেহের প্যাকেট উদ্ধার করেন শ্রীপুর থানা পুলিশ 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় নিখোঁজের চারদিন পর নিজ ঘরের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারে গৃহবধূ সুমি আক্তারের (২২) মাথাবিহীন মরদেহের সন্ধান মিলেছে। পাঁচটি পলিথিনে টুকরো টুকরো অবস্থায় মরদেহটি মোড়ানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট উদ্ধার করেন। এঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী মামুন পলাতক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ সুমি আক্তারের ছোটবোন বৃষ্টি আক্তার।

নিহত সুমি আক্তার নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার দেবকান্দা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মামুনের স্ত্রী। গত দেড় বছর আগে তাদের মধ্যে বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে।

সুমি স্থানীয় গিলারচালা এলাকার সাবলাইন গ্রিনটেক গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিক ও স্বামী মামুন পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান। তারা গিলারচালা গ্রামের সফিকুল ইসলাম বিপুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দেড় মাস আগে তারা ওই বাড়িতে ভাড়ায় উঠেন।

বৃষ্টি আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার কারখানা ছুটির পর ওই রাতেই নেত্রকোনায় বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল সুমির। খোঁজ নিতে শুক্রবার স্বামী মামুনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে (স্বামী মামুন) জানায় সুমি বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে। পরদিন শনিবারও বাড়িতে না যাওয়ায় বৃষ্টি আক্তার নিজে তাদের ভাড়া বাসায় খোঁজ নিতে আসেন। সেখানে তাদের কাউকে পাননি, এমনকি মামুনের মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় আবার খোঁজ নিতে এসে ঘর থেকে পঁচা মাংসের গন্ধ পেয়ে আশপাশের লোকদের ডেকে আনেন। এতে স্থানীয় লোকদের সন্দেহ হলে তালা ভেঙ্গে তারা ঘরে ঢুকেন।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব কুমার সাহা জানান, “নিহত সুমি আক্তারের স্বজনদের খবরে পলিথিনে মোড়ানো মাংস উদ্ধার করা হয়। পরিচিতি নির্ণয়ের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা মামুনকে চিহ্নিত এবং কয়েকজন অজ্ঞাতদের অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার শ্রীপুর থানায় একটি মামলা রুজু করেন। এঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, টুকরো করা মাংসগুলো একজন নারীর। তার মাথা পাওয়া যায়নি। পরিচিতি নির্ণয় প্রক্রিয়াধীন।