• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৮ রাত

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন কয়েদিরা

  • প্রকাশিত ০৩:৫০ বিকেল আগস্ট ১৬, ২০১৯
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রায় ৩শ' বন্দি তাঁত, বাঁশ-বেত, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও হস্তশিল্পের কাজে ব্যস্ত থাকেন। ছবি: ইউএনবি

কারাগারের প্রায় ৩শ' বন্দি তাঁত, বাঁশ-বেত, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও হস্তশিল্পের কাজে ব্যস্ত থাকেন

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাজীবনেও দক্ষ ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন কয়েদিরা। কারাজীবন শেষে তারা যেন আবার অপরাধে না জড়িয়ে পড়েন সেজন্য তাদের শেখানো হচ্ছে নানা রকমের হস্তশিল্পের কাজ। এতে একদিকে যেমন কয়েদিদের মানসিক উন্নয়ন ঘটছে, তেমনি উৎপাদিত পণ্য বিক্রির মুনাফাও পাচ্ছেন তারা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৬২ সালে কুমিল্লা জেলা কারাগারটিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরিত করা হয় । এই ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৭শ ৪২ জন হলেও প্রতিনিয়ত গড়ে এখানে তিন হাজার কয়েদি অবস্থান করেন।

কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তাদের যেন কর্মহীন হয়ে না থাকতে হয় সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পাল্টে গেছে সেখানকার সাজাপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষ কারাবন্দিদের জীবনধারা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারের প্রায় ৩শ' বন্দি তাঁত, বাঁশ-বেত, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও হস্তশিল্পের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এটি এখন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিত্যদিনের দৃশ্য।

দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে যুক্ত থাকার কারণে এখন তারা হস্তশিল্পে রীতিমত দক্ষ হয়ে উঠেছেন। যার ফলে তাদের তৈরি পণ্য এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এইসব পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন কারাবন্দিরা।   

কুমিল্লা কারাগারের ডেপুটি জেলার ও ইনচার্জ শাহনাজ বেগম এ প্রসঙ্গে বলেন, "কুমিল্লার কারাগারে বন্দীদের তৈরি নানা পণ্য সুলভ মূল্যে সারা বছর বিক্রি হয়। কারাগারের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলাসহ বিভিন্ন মেলায় এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।"

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ফোরকান ওয়াহিদ জানান, "কারাগারে বিক্রিত পণ্যের লভ্যাংশ দেয়া হচ্ছে বন্দিদের। এতে কারা জীবনেও তারা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি সাজা ভোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে তারা দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।"