• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৮ রাত

মিরপুরে ভয়াবহ আগুনে হাজারো মানুষ গৃহহারা

  • প্রকাশিত ০৮:২৩ রাত আগস্ট ১৬, ২০১৯
অগ্নিকাণ্ড
রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে চলন্তিকা মোড়ে একটি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। রাজীব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

বস্তি সংলগ্ন একটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন

রাজধানীর মিরপুর ৬ এবং ৭ নম্বরে মধ্যবর্তী চলন্তিকা মোড়ে একটি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০ টি ইউনিটের ১১৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

সেখানে কর্তব্যরত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন জানান, সন্ধ্যা ৭ টা ২২ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ৭টা ২৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করছে পুলিশ, র‍্যাব এবং ওয়াসার কর্মীরা।

রুপনগর থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) গোলাম রাব্বানি বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত একজন আহয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।"

"অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ফায়ার সার্ভিস তদন্ত করে বলতে পারবে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি", যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তারা জানান, আগুনে বস্তির প্রায় ১ হাজারেরও বেশি ঘর পুড়ে গেছে। তবে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে সেখানে কেউ ছিলেন না।


তবে, বস্তিবাসীদের অনেকেই আগুনের ভয়াবহতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জানান, আগুনে তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তাদের এখন যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। এই বস্তিতে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের ১ লাখ মানুষের বসবাস যাদের সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বস্তির অধিকাংশ ঘর কাঠ ও বাঁশের তৈরি। এসব ঘরের ছাদ পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বস্তি সংলগ্ন একটি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে ওই ভবনে কেউ আছেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি।

এদিকে বস্তির অনেক বাসিন্দা দাবি করেছেন, আগুন লাগার পর ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে, কারো মৃত্যু হয়েছে কিনা তা তারা জানেন না।

ওই বস্তির বাসিন্দা গৃহবধূ সাথী আক্তার জানান, আগুন লাগার পর তার স্বামী তাকে দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে আনেন। তবে এরপর থেকেই স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

বস্তির আরেক বাসিন্দা রিকশাচালক সাইদুর রহমান বলেন, "চাচাতো ভাইসহ আমাদের পরিবারে মোট ১০ জন। সবাই আমরা এখানে থাকতাম। কিন্তু আমরা কেউই ঘর থেকে কিছু নিয়ে বের হওয়ার সুযোগ পাইনি। আগুনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।"

"একই অবস্থা বস্তিতে বসবাসকারী প্রায় সব পরিবারেরই। তারা কেউই তাদের ঘর থেকে কিছু নিয়ে বের হতে। আমরা সবাই গরীব। আমি জানিনা এখন আমরা কোথায় যাবো, কি করবো?", যোগ করেন তিনি।