• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৮ রাত

পাটুরিয়ায় ঈদফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

  • প্রকাশিত ১১:০৩ রাত আগস্ট ১৬, ২০১৯
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ঘরফেরত মানুষের ভিড়। ছবি: ইউএনবি

স্বাভাবিকভাবে পাটুরিয়া থেকে ঢাকার গাবতলীর ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা হলেও বর্তমানে সেই একই দূরত্বে যাত্রী প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। খোলা ট্রাকেও একই অবস্থা।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঈদফেরত যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় শুরু হয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে লঞ্চ ও ফেরি সংকটের অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে বাড়তি ভাড়া প্রতিরোধে ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকালের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ শেষে ঢাকাগামী দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ঘাটে যানবাহন স্বল্পতায় বিড়ম্বনা আর ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা জানান, নদী পার হতে তারা রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাটে এসে লঞ্চঘাটে আসেন। সেখানে নির্ধারিত ২৫ টাকা লঞ্চ ভাড়া নেওয়া হলেও পাটুরিয়ায় এসে বিড়ম্বনায় পড়েন। বাসের সংকট থাকায় তাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

অনেকে বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে তাতেও বাড়তি ভাড়া থেকে রেহাই পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

স্বাভাবিকভাবে পাটুরিয়া থেকে ঢাকার গাবতলীর ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা হলেও বর্তমানে সেই একই দূরত্বে যাত্রী প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। খোলা ট্রাকেও একই অবস্থা।

মাগুরা থেকে দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে লঞ্চে পার হয়ে আসা যাত্রী সফি উদ্দিন জানান, পাটুরিয়া ঘাটে লোকাল বাস সার্ভিসে সব সময় ৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে গাবতলী যাতায়াত করেন। ঈদ উপলক্ষে তার কাছে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে তিনশ টাকা। আর দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা করে।

যাত্রীসেবা, শুভযাত্রা, পদ্মালাইন, ভিলেজ লাইন, সেলফি সার্ভিস, নবীনবরণ সার্ভিস, পল্লীসেবাসহ অন্যান্য সব লোকাল সার্ভিস দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

ঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক থাকলেও তাদের পাশ কাটিয়ে এসব করছেন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা। যাত্রীরা এ ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

তবে এসব লোকাল বাস সার্ভিসের চালকরা ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঢাকা থেকে বাসগুলো একদম খালি আসছে। বাধ্য হয়ে তাদের এখান থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নিতে হচ্ছে। এতে তারা খুব একটা লাভবান নন।

তবে যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি বাসের জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শিবালয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এলে কিংবা কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে পাটুরিয়াঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। শুক্রবার দিনভর পাটুরিয়া ঘাটে অভিযান চালানো হয়।”

পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকাগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে নিরাপদ পরিবহনের চালক মিরাজুলকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া, দিনভর অভিযানে বিভিন্ন পরিবহনকে ৬৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকে যাত্রী বহনের দায়ে ট্রাক চালক আবদুস সালামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।