• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০১ রাত

টাকায় রয়েছে মানব মলের ব্যাকটেরিয়া, প্রস্রাবে ইনফেকশনের শঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৭:৩৮ রাত আগস্ট ১৭, ২০১৯
টাকা
টাকায় পাওয়া ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ জাতীয় ব্যাকটেরিয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ছবি: মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নিশাত তাসনিমের গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। টাকার নোট ও কয়েনে পাওয়া ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ জাতীয় এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

দেশে ব্যবহৃত টাকার নোট ও কয়েনে ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ জাতীয় ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে যা মানব মলের মধ্যে পাওয়া যায়। এসব টাকায় ১ হাজারেরও বেশি সংখ্যায় এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী নিশাত তাসনিম এই গবেষণা করেন। তার গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘স্ট্যাডি অন দ্যা ব্যাকটেরিয়াল কন্টামিনেশন অন পেপার মানি অ্যান্ড কয়েনস অব খুলনা সিটি এরিয়া’। ছয় মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। মোট ১৫টি উৎস থেকে তিনি টাকার নোট ও কয়েন সংগ্রহ করেন। 

উৎসগুলো হচ্ছে নতুন টাকার নোট, রিকশা চালক, মুদি দোকান, পথখাবারের দোকান, জুস বিক্রেতা, ভিক্ষুক, মুরগির দোকান, সবজির দোকান, মাছ ও মাংস বিক্রেতা, রেস্টুরেন্ট, জুতার দোকান, ফুচকার দোকান, ফল বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ।

তিনি জানান, পরীক্ষায় তিনি টাকার নোট ও কয়েনে প্রচুর পরিমাণে ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ পান। জনসচেতনা সৃষ্টির জন্য তিনি এই কাজটি করেন বলে জানান।

এপ্রসঙ্গে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম কামাল বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় টাকার নোট ও কয়েনে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে তা মানুষের মলের মধ্যে থাকে। মাঝে মধ্যে দেখা যায় টাকা মাটিতে, ময়লার মধ্যে কিংবা ড্রেনে পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই টাকা শুকিয়ে আবার তা ব্যবহার করেন। টাকায় যে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তা পেটে গেলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া প্রসাবের ইনফেকশনও হতে পারে। সে কারণে টাকা ধরার পর হাত ধুয়ে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা সুপারভাইজার ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, টাকাই আমাদের জীবন, টাকা ছাড়া জীবন অচল। অথচ সেই টাকাই আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। টাকা ধরে হাত না ধুয়ে খাবার খেয়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যেটা আমরা অনেকেই বুঝতে পারছি না। তিনি জানান, শিগগিরই আরও বড় পরিসরে ১ বছর ধরে এ সংক্রান্ত আরেকটি গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণায় মাংস, মাছ ও মুরগি বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া টাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া ও মলের জীবানু পাওয়া যায়। অন্য ১২টি উৎস থেকে নেওয়া টাকার নোট এবং কয়েনেও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। 

গবেষণায় দেখা যায়- মাংসের দোকান থেকে সংগ্রহ করা টাকার নোটে সর্বাধিক ২৬৭০টি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, মাছ বিক্রেতার টাকায় ২৬০০, মুরগি বিক্রেতার টাকায় ২৩০০ এবং মাছ ও মুরগি বিক্রেতার টাকায় ২৮০০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এছাড়া মাংসের দোকানের টাকায় ২৬০০ ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।

অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা টাকায়ও এ দু'টি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তবে সেগুলো ১০০০ এর নিচে রয়েছে। 

এছাড়া মাছ বিক্রেতার দোকান থেকে সংগ্রহ করা কয়েনে ২৬০০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, মুরগির দোকানের কয়েনে ২৪৮০, জুস বিক্রেতার কয়েনে ২৬০০, মাংসের দোকানের কয়েনে ২১৩০, পথ খাবারের দোকানের কয়েনে ১৭৯০ ও ফুচকার দোকানের কয়েনে ১২৫০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।

ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় মুরগির দোকানের কয়েনে- ২৯০০, মাছ বিক্রেতার কয়েনে ২৮০০, মাংস বিক্রেতার কয়েনে ২৬৬০, ফল বিক্রেতার কয়েনে ২০৬০, পথ খাবারের দোকানের কয়েনে ১৫৭০, ফুচকা বিক্রেতার কয়েনে ১৪৬০, সাধারণ মানুষের কয়েনে ১২০০, ভিক্ষুকের কয়েনে ১০৮০। অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা কয়েনেও এ দুটি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তবে সেগুলো ১০০০ এর নিচে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ জানান, ১ হাজারের বেশি পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।