• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

ভিপি নুর: খালেদা জিয়ার মতো পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে

  • প্রকাশিত ০৯:২৯ রাত আগস্ট ১৯, ২০১৯
নুর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। ঢাকা ট্রিবিউন

‘তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না বলতে বারবার হুমকি দিচ্ছে। তারা এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সরকারের সমালোচনা করলে পরিণতি ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মতো’ হতে পারে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। 

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুর এ অভিযোগ করেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

এর আগে গত বুধবার নুরুল হক নুর নিজ জেলা পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে দশমিনা এলাকায় যাওয়ার পথে উলানিয়া বাজারে হামলার শিকার হন। এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। 

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক অভিযোগ করেন, “আমি কোনো অন্যায় বা অপরাধ করিনি; শুধু অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই আমি ও আমার সংগঠনের নেতাকর্মীরা বারবার ক্ষমতাসীন দলের রোষানলের শিকার হয়েছি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি পাচ্ছি। তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না বলতে বারবার হুমকি দিচ্ছে। তারা এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনা করেও বলা হয়েছে যে সরকার ইচ্ছা করেছে- তাকে জেলে রেখেছে। আমরাও যদি সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করি, আমাদের পরিণতিও সেরকম হতে পারে- এ রকম হীন হুমকিও তারা দিচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুরুল হক অভিযোগ করেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু এবং চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন শাহের নেতৃত্বে তার ভাই নূরে আলমসহ লিটু পেয়াদা, আব্বাস পেয়াদা, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রনো, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক, উলানিয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল, যুবলীগ নেতা ইদ্রিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ফরিদ আহসান কচিন ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ আসিফ, ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ তূর্যসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী আমাকে হত্যার উদ্দেশে রড, স্টিলের চেইন ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ ২০-২৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে চার-পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করেছে। পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে কোনো মিডিয়াকে ফুটেজ নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যেতে দেয়নি। কোনোরকম চিকিৎসা না দিয়ে জোর করে তারা আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গলাচিপা হাসপাতালে অবস্থানকালেও তারা আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সমর্থকদের গ্রেপ্তারের হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনাসহ মোট আটবার ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।”

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আরো বলেন, “আমাদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, পুলিশের নীরব ভূমিকা ছিল সন্ত্রাসীদের সহায়ক। সর্বশেষ ১৪ আগস্টের ঘটনার আগে হামলার আশঙ্কায় গলাচিপা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও ওসি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালায়। এমতাবস্থায় আমি নিজের প্রাণনাশের শঙ্কা বোধ করছি।”

তিনি বলেন, “হামলাকারীদের একটিই উদ্দেশ্য, সেটি হচ্ছে- আমাকে হত্যা করা এবং আমার সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করে দেওয়া। তাই আমি ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করবো, আপনারা আমার তথা অন্যায়ের প্রতিবাদী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিজের ওপর হওয়া হামলার বিচার দাবি করেন নুরুল হক নুর বলেন, “কিছুদিন আগেও আপনি বলেছেন যে সরকারের সমালোচনা করতে কোনো বাধা নেই, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। আপনার কাছে অনুরোধ, ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনার দলের নেতাকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে কার্যকর করুন, আমার সংগঠনের নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ করুন। আমাদের ওপর যারা বারবার হামলা করছে, তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে আপনি দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে আমরা আশা করছি।”