• রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

সুন্দরবন থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৪:৪৬ বিকেল আগস্ট ২১, ২০১৯
বাঘ
গত ২০ আগস্ট পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের আওতাধীন ছাপড়াখালী এলাকা থেকে বন বিভাগের সদস্যরা মৃত অবস্থায় বাঘটিকে উদ্ধার করেন। ঢাকা ট্রিবিউন

বন প্রহরীরা তাদের নিয়মিত টহলের সময় কটকা অভয়ারণ্যের ছাপড়াখালী এলাকায় বাঘের মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন।

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের আওতাধীন ছাপড়াখালী এলাকা থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বনপ্রহরীরা তাদের নিয়মিত টহলের সময় কটকা অভয়ারণ্যের ছাপড়াখালী এলাকায় বাঘের মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ে আনা হয়। এটি স্ত্রী বাঘ (বাঘিনী)। এর দৈর্ঘ্য সাত ফুট ও উচ্চতা তিন ফুট। যৌথভাবে বাঘটির ময়নাতদন্ত করেছেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাতক্ষীরার শরণখোলার প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আলাউদ্দিন মাসুদ। ময়নাতদন্ত শেষে চামড়া সংরক্ষণ করে লাশটি মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।  


আরো পড়ুন -  গাজীপুর সাফারি পার্কে গুইসাপ খেয়ে বাঘের মৃত্যু


মাহমুদুল হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “একটি বাঘ বন্য পরিবেশে খুব বেশি হলেও ১২ থেকে ১৪ বছর বাঁচে। বাঘটির আনুমানিক বয়স ১০ বছর। বাঘটির শরীরে কোনো গুলি বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করাছি, বার্ধক্যজনিত কারণেই বাঘটির মৃত্যু হয়েছে।” 

বাঘ শিকারিদের দেওয়া বিষটোপ খাওয়ার কারণে বাঘটির মৃত্যু হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষ খেয়ে মৃত্যু হলে বাঘের জিহ্বা নষ্ট হয়ে যায়। বাঘটির ক্ষেত্রে তেমন কোনো চিহ্ন পাননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা। তবে মৃত্যুর বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্যাম্পল হিসেবে জিহ্বাটি সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি ঢাকায় বন বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবে (আগারগাঁও) পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।”


আরো পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?


এদিকে বাঘটির ময়নাতদন্ত শেষে ডা. মো. আলাউদ্দিন মাসুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাঘের দেহের কোথায়ও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটির মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৬ ঘণ্টা আগে। তাই দেহের অভ্যন্তরে পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে ফুসফুস ও পাকস্থলি ভালোভাবে পরীক্ষা করা যায়নি। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা মনে করছি, বয়সজনিত করণেই বাঘটির মৃত্যু হয়েছে। তারপরও আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য এর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাটি ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর বলা যাবে, কোনো রোগে ভুগে বাঘটির মৃত্যু হয়েছিল কিনা।”

বাঘের মৃত্যু বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “একটি বাঘ সাধারণত ৩ বছরেই পূর্ণ বয়স্ক হয় এবং কোনো কারণে যদি মারা না যায় তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তবে যে কারণেই বাঘের মৃত্যু হয়ে থাকুক না কেন ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই তার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।”


আরো পড়ুন - বাঘ বেড়েছে সুন্দরবনে