• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমরা জোর করে কিছু করতে চাই না

  • প্রকাশিত ১০:৩১ রাত আগস্ট ২২, ২০১৯
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল কালাম আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি।

'আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসার ফলে এখন আরামে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য হয়তো সামনে সমস্যা হবে'

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জোর করে কিছু করতে চায় না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। সেই সাথে তিনি মাতৃভূমিতে ফিরতে না চাওয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থার ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। 

বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে আবারও প্রত্যাবাসন আটকে যাওয়ার মাঝে বিকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে ইউএনবি'র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, "এটা দুঃখজনক। আপনি আর কী করতে পারেন! আমরা এখনো উচ্চ আশা নিয়ে অপেক্ষা করছি। মিয়ানমার এ সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং এর সমাধানও সেখানে রয়েছে। আমরা জোর করে কিছু করতে চাই না।"

ড. মোমেন বলেন, "রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও সুরক্ষার যে ভয়ে আছে তা দূর করতে ১০০ মাঝি বা রোহিঙ্গা নেতাকে রাখাইন রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার এবং তাদের সেখানে নিজ গৃহে স্বাগত জানাতে কী পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখাতে হবে মিয়ানমারকে।"

"মিয়ানমারের প্রমাণ করা উচিত যে সেখানে উন্নয়ন হয়েছে এবং শান্তি বিরাজ করছে। এজন্য মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি দেখতে সাংবাদিকদেরও নিয়ে যেতে পারে মিয়ানমার।", যোগ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "মিয়ানমার যদি সৎ হয়ে থাকে তাহলে তাদের এগিয়ে আসা এবং রাখাইনে পরিস্থিতি দেখার জন্য প্রবেশাধিকার দেয়া উচিত।"

রাখাইনের উন্নতি দেখতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ সেখানে শান্তি ও স্থিতিশিলতা বিরাজ করছে কি না তা পরিদর্শনে বিভিন্ন দেশের মানুষদের নিয়ে একটি কমিশন গঠনের কথা ভাবছেন বলেও এসময় জানান তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "মিয়ানমারে না ফিরতে রোহিঙ্গাদের উৎসাহ দিয়ে কারা লিফলেট বিতরণ, ইংরেজিতে লেখা সাইনবোর্ড সরবরাহ ও প্রচারণা চালিয়েছেন তা চিহ্নিত করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

এসময় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তহবিলের সরবরাহ কমে আসার প্রতি ইঙ্গিত করে ড. মোমেন বলেন, "আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসার ফলে এখন আরামে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য হয়তো সামনে সমস্যা হবে। নিজেদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য তাদের ফিরে যাওয়া উচিত।"

তবে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।