• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৩৭ বিকেল

অবশেষে জামিন পেলেন খুলনার থানায় ধর্ষণের শিকার সেই নারী

  • প্রকাশিত ১২:৪৯ দুপুর আগস্ট ২৮, ২০১৯
আদালত
প্রতীকী ছবি

গত ২ আগস্ট যশোর থেকে কমিউটার ট্রেনে খুলনায় ফেরার পথে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই নারীকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করেন

মাদক মামলায় জামিন পেয়েছেন খুলনা জিআরপি থানায় ধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূ। বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে।

ওই নারীকে আইনি সহায়তাদানকারী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট শুনানিতে জামিন না মঞ্জুর হওয়ার পর ২৮ আগস্ট আবারও জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে কমিউটার ট্রেনে খুলনায় ফেরার পথে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই নারীকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করেন। রাতে তাকে খুলনা জিআরপি থানা হাজতে রাখা হয়। পরদিন (৩ আগস্ট) তার কাছ থেকে ৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ফুলতলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির জন্য হাজির করা হয়। এসময় জিআরপি থানায় রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ওই নারী।

তিনি বলেন, ওই সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করে। ৭ আগস্ট ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুলকে প্রত্যাহার করে পাকশীতে পাঠানো হয়। ৮ আগস্ট পাকশী ও ঢাকা থেকে গঠিত পৃথক দুইটি তদন্ত দলের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলগেটে নির্যাতিতার জবানবন্দি নেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি তদন্তর শুরুতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নির্যাতিতা নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ আগস্ট আবেদন করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে গত ২৬ আগস্ট তিনি জেল গেটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।