• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

‘চরিত্রহীন’ অপবাদে স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে মারধর, জামিনে মুক্ত অভিযুক্তরা

  • প্রকাশিত ০৬:০৪ সন্ধ্যা আগস্ট ২৮, ২০১৯
যৌন হেনস্থা
প্রতীকী ছবি

মামলা করতে গেলে এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে ওই ছাত্রীকে

গ্রাম্য শালিসে এক স্কুল ছাত্রীকে ‘চরিত্রহীন’ অপবাদ দিয়ে প্রকাশ্যে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট ও লাখ টাকা জরিমানার ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জে। জেলার হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণ ইউনিয়নের পিঁয়াজচর গ্রামে গত ২১ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। 

সালিশ বৈঠকে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার তিন সহপাঠী বন্ধুকেও মারপিট এবং জরিমানা করা হয়। 

এদিকে, মারধরের পর মামলা করতে গেলে এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে ওই ছাত্রীকে।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন জানান, স্কুল ছাত্রীকে মারপিটের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মেয়েটির বাবা মামলা করেছেন। তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তারাসহ সবাই আদালত থেকে জামিনে পেয়েছেন। ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন সালিশের কথিত মাতব্বরসহ মূল হোতারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যলয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে মেয়েটি। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই তাকে প্রতিবেশি রানা, হৃদয়, সজিব, কালাম, আসিফ ও রাকিবসহ কয়েকজন বখাটে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার নানীকে জানায়। এ ঘটনায় বখাটেরা ক্ষিপ্ত মেয়েটির ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থীর তিন সহপাঠী বন্ধু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘরে ঢুকলে বাইরে থেকে ওই বখাটেরা তাদেরকে তালাবদ্ধ করে দেয়। এরপর তাকে ‘চরিত্রহীন’ অপবাদ দিয়ে ওই রাতেই স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বর ও লোকজনকে ডেকে আনা হয়। রাতেই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সালিশ বসে।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাব আলী, সাবেক ইউপি সদস্য আয়নাল, জনাব আলী (জুনি), মাতব্বর কাঞ্চন মাস্টার, লুৎফর, খলিল কাজী ও আবুলসহ অর্ধশতাধিক মানুষ। রাত ১০ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত চলে এই শালিসী বৈঠক।

অভিযোগ, সালিশে ওই ছাত্রী ও তার বন্ধুদের কোনো বক্তব্য না শুনেই একতরফা অপবাদ দিয়ে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়েটির তিন বন্ধুকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মাতব্বর লুৎফরসহ কয়েকজন তিনদিন পর শিক্ষার্থীর বাড়িতে জরিমানার টাকা আনতে যান। দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে বাঁশ ও রড দিয়ে পেটানো হয়। এতে ওই শিক্ষার্থীসহ তার নানী, খালা ও খালাতো বোন গুরুতর আহত হলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারপিটের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হরিরামপুরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে জানাজানি হয়।

পরে পরিবারের সদস্যরা ওই স্কুল ছাত্রীকে সাভারের হাসপাতালে ভর্তি করেন। সাতদিন হাসপাতালে অবস্থান করার পর বুধবার (২৮ আগস্ট) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। তবে বাড়ি না ফিরে তারা সাভারে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন বলে জানান মেয়েটির বাবা।

এদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাব আলীসহ অভিযুক্তদের কাছে এ বিষয়ে চানতে চাইলে তারা কিছু বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, যারা মেয়েটিকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেছে তাদের আগে শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও তাকে না জানিয়েই ওই সালিশ বৈঠকের আয়োজন এবং জরিমানার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।