• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

প্রক্টর, রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন না, ভিসি আসেন কদাচিৎ

  • প্রকাশিত ১০:৩৩ রাত আগস্ট ২৮, ২০১৯
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

প্রধান তিন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অধিকাংশ সময়েই অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এদিকে দুইমাস ধরে রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার কার্যালয়ে আসেন না এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আতিউর রহমানও অফিস করেন না। প্রধান তিন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। 

বুধবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে রেজিস্টার ও প্রক্টর কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে তাদের দু'জনের কক্ষে তালা ঝুলছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে আবু হেনা মোস্তফা কামাল যোগ দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ দুইমাস ধরে তিনি তার কার্যালয়ে আসছেন না। তিনি কখন আসেন, কোথায় বসেন তা তার ঘনিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া কেউ জানেন না। 

নাম প্রকাশে অনিশ্চকু কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তিনি বেশিরভাগ সময়ে ঢাকায় থাকেন। মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন কিন্তু তার কার্যালয়ে না এসে উপাচার্যের বাস ভবনের অফিসে বসে ফাইল স্বাক্ষর করে আবার ঢাকায় চলে যান। তার অফিসের টেলিফোনে কখনই তাকে পাওয়া যায়না। তার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কখনই ফোন রিসিভ করেননি। 

ঢাকা ট্রিবিউন প্রতিনিধি ছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোনো সাংবাদিকের ফোন তিনি রিসিভ করেন না বলে অভিযোগ গণমাধ্যমকর্মীদের। 

একই রাস্তায় হাঁটছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আতিউর রহমানও। যোগদান করার পর থেকে তিনি কখনই গণমাধ্যমকর্মীদের ফোন রিসিভ করেননি। তিনি তার কার্যালয়েও আসেন না। 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, রেজিস্ট্রার হিসেবে আবু হেনা মোস্তফা কামাল যোগদান করার এক সপ্তাহ পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের কার্যালয়ে তিনি আর আসেন না। প্রশাসনিক বিভাগে সকাল ১১টার আগে কোন কর্মকর্তা আসেন না আবার বেলা ২টার পর তারা চলে যান, ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক বিভাগে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। একই ভাবে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ ক্যাম্পাসে মাঝে মধ্যে সকালে আসেন, আবার বিকালেই বিমানে ঢাকায় চলে যান। তিনিও ফোন রিসিভ করেন না। এতে করে শিক্ষার্থীরা জরুরী প্রয়োজনে প্রশাসনিক বিভাগ থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।