• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

‘গাফিলতিতে’ ৩ বছরেও হয়নি নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

  • প্রকাশিত ০৩:২৬ বিকেল আগস্ট ২৯, ২০১৯
নড়াইল
ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ছবি: ইউএনবি

২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর কাজ শেষের মেয়াদ ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) অধীনে দেড় বছরের কাজ গত তিন বছরেও শেষ হয়নি

কর্তৃপক্ষের ‘গাফিলতির’ কারণে তিনবছরেও শেষ হয়নি লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর ১৭৫ মিটির দৈর্ঘের সেতু নির্মাণ কাজ।

২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর কাজ শেষের মেয়াদ ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) অধীনে দেড় বছরের কাজ গত তিনবছরেও সম্পন্ন করা যায়নি। এতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অন্তত ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এলজিইডি জুন মাসের অগ্রগতির প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, সেতুটির ৮৫ ভাগ কাজ হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নবগঙ্গা নদীর উত্তরে গন্ডব এবং দক্ষিণে বাহিরপাড়া গ্রাম। গন্ডব ঘাটে সেতুটি হচ্ছে। ১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থ পিসি গার্ডার এই সেতুটি নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে ১০ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিপিএল-এনএকে। ঠিকাদারের নাম নায়েব আলী খান। বাড়ি গোপলগঞ্জের কাশিয়ানীতে

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটিতে ৮-৯ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ঢালাই দিতে একটি স্লাবের রড বাঁধছে তারা। উভয় পাশের সংযোগসড়ক এখনো নির্মাণ হয়নি। রেলিংয়ের অধিকাংশ কাজ বাকি।

সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডির লোহাগড়া উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, সেতুটিতে ১৫টি গার্ডারের ওপর পাঁচটি স্লাব ঢালাই হবে। শেষ গার্ডারের ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। ঠিকাদার কাজ অব্যাহতভাবে না করায় দেরি হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ওপর এতো বড় সেতু হচ্ছে, অথচ শুরু থেকেই কাজ যেন নিষ্প্রাণ। মাঝে চার-ছয় মাস একদমই কাজ হয়নি। এরপর একটু হয়ে আবার বন্ধ থাকে। এনিয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট মহলে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। এঅবস্থায় এলাকার অন্তত এক লাখ মানুষকে নড়াইল যেতে ঘুরে ২৯ কিলোমটিার পথ পাড়ি দিতে হয়। লোহাগড়া যেতে ১৩ কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়। অথচ সেতুটি হলে নড়াইলে যেতে ১৫ ও লোহাগড়ার ৭ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণ হলে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অন্তত ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে। উপজেলার সর্ববৃহৎ ২টি বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত সময়ে বাজারজাত করতে পারবে। এলাকার সাধারণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণ শুরু করেছে এলজিইডি বিভাগ। সেতুর ৩ কিলোমিটার উত্তর পাশে রয়েছে লোহাগড়ার বৃহৎ বাণিজ্যিক বাজার মানিকগঞ্জ। আর সেতুর ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে উপজেলার সবচেয়ে বড় এ্যাড়েন্দা হাট অবস্থিত। দীর্ঘদিনের পুরাতন এই হাটে আসার জন্য উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মানুষকে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গন্ডব গ্রামের বাসিন্দা লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক কবীর হোসেন জানান, নবগঙ্গা নদী কাশিপুর ইউনিয়নকে উপজেলা থেকে বিভক্ত করেছে। নদীর উত্তরপাড়ে এই ইউনিয়নের বড় দুটি গ্রাম গন্ডব ও চালিঘাট। নদী পার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়। এই এলাকার লোকজনের নদীর দক্ষিণপাড়ে অনেক ফসলি জমি রয়েছে। এছাড়া সেতুটি চালু হলে কাশিপুর ও জয়পুর ইউনিয়নের একাংশ এবং শালনগর, নোয়াগ্রাম ও লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীসহ সবারই দুর্ভোগ লাঘব হবে।

মানিকগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী কিবরিয়া বলেন, তারা প্রতিনিয়ত মানিকগঞ্জ বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ্যড়েন্দা হাটে যান। কিন্তু গন্ডব এলাকায় সেতু না থাকায় তাদেরকে ১৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে লোহাগড়া হয়ে এ্যড়েন্দা যেতে হয়। এতে তাদের পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যায়। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে উপজেলার ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নূর ইসলাম শরীফ বলেন, বর্ষায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে দেরি হচ্ছে। কাজটি কবে নাগাদ শেষ করা যাবে এনিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

তবে স্থানীয় ও শ্রমিকেরা বলছেন, এ নদী উত্তাল নয়, খোঁড়া যুক্তি ঠিকাদার পক্ষের। মূলত ঠিকাদার মালামাল ঠিকমত সরবরাহ না করায় দেরি হচ্ছে।

নড়াইল জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র সমদ্দার বলেন, “স্থানীয় মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে এখানে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। অল্পদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”