• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৬ সকাল

সীমান্ত এলাকা থেকে তীরবিদ্ধ হওয়ার পর যুবক ‘নিখোঁজ’

  • প্রকাশিত ০৮:১১ রাত আগস্ট ২৯, ২০১৯
বাংলাদেশ -ভারত  সীমান্ত
বাংলাদেশ -ভারত সীমান্ত। ফাইল ছবি

তীরবিদ্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পর দুটি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাতপরিচয় তিন যুবক ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতস্থানে কাপড় পেঁচিয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়

নীলফামারী জেলার ডোমারে ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় তীরবিদ্ধ হওয়ার পর ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন নাজিমুল হক (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। তিনি ইউনিয়নের উত্তর নিজভোগাবুড়ি গ্রামের চৌকিদারের মোড় কাওলা পাড়ার হযরত আলীর ছেলে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তীরবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে আপনপাড়ার ৭৭৯ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলার এলাকা থেকে দু’টি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতপরিচয় তিন যুবক তুলে নিয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। 

সীমান্তের আপনপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের জানান, ওই যুবকের ডানহাতে তীরবিদ্ধ হয়। তবে কারা তীর ছুঁড়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। 

তবে নাজিমুল তীরবিদ্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পর দুটি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাতপরিচয় তিন যুবক ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতস্থানে কাপড় পেঁচিয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, বলেন তিনি।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তের আদর্শ গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, নাজিমুলের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। সে স্থানীয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। 

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এদিন ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের কাওলা গ্রামের জাহিদুল (৫০) ও নাজিমুলসহ ৬-৭ যুবক সীমান্তের ৭৭৯ মেইন পিলারের সাব পিলার ৯ এস-পিলার এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ঢোকেন। এসময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাধা দিতে তীর নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে নাজিমুলের ডানহাতের কনুই তীরবিদ্ধ হয়। তাদের সঙ্গীরা আহত তাকে নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই সীমান্তের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়ি তিস্তা নদীর ৭৭৯ প্রধান পিলারের ৯ সাব পিলার ও ৭৮০ নম্বর সীমান্ত প্রধান পিলার এলাকায় রক্তের ছাপ পড়ে আছে। সীমান্তের ওই এলাকায় নদী থাকায় সেখানে কোনো তারকাঁটার বেড়া নেই।

খোঁজ নিতে নাজিমুলের বাড়িতে গেলে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরা জানান, তার বাবা ও বড় দুই ভাই ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গ্রামে মাকে নিয়ে থাকেন নাজিমুল। ভোরে নাজিমুলকে নিয়ে তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর তার মাকেও মোটরসাইকেলে করে রংপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। 

তবে, ডোমার উপজেলা হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তীরবিদ্ধ কোনো রোগী চিকিৎসার জন্য সেখানে যাননি।

ভোগডাবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না।

৫৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ডাঙ্গাপাড়া ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার খসরুল আলম জানান, বিজিবি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।