• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

জামালপুরে প্রধান শিক্ষিকাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

  • প্রকাশিত ১০:৩৩ রাত আগস্ট ২৯, ২০১৯
জামালপুর

ভুক্তোভোগী প্রধান শিক্ষিকা জানান, ‘হঠাৎ করে সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান ফর্সা অফিসকক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে আমার ওপর এলোপাথারি হামলা চালায়’ 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে ঢুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান ফর্সা। এঘটনায় আহত প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা বীনা বকশীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার নীলাক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান ফর্সা স্কুুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চায়। একারণে হামিদুর রহমান ফর্সা রাফিউল ইসলাম রাফি নামে এক শিশুকে তার নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে স্কুলে ভর্তি করায়। কিন্তু হামিদুর রহমান ফর্সার প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা বীনার কাছে অভিযোগ করেন, সাজিমারা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি হাফিজুর রহমান ফর্সার সন্তান না। সে একই গ্রামের হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহর ছেলে।

বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তারের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র চান। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার তার প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন রাফির বাবার নাম হামিদুর রহমান ফর্সা নাম দিয়ে যে জন্ম সনদটি দাখিল করেছে সেই জন্ম সনদটি নকল। প্রকৃতপক্ষে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে স্কুলে একটি ভুয়া জন্ম সনদ দাখিল করা হয়েছে। রাফির বাবার নাম হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহর। এই নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা ও হামিদুর রহমান ফর্সার সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক তারিকুজ্জামান ছোটন জানান, ফর্সা বৃহস্পতিবার স্কুলে ঢুকে একটি লোহার রড নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে ঢুকে তালাবদ্ধ করে বেদম পেটাতে থাকেন। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও গ্রামবাসী এসে প্রধান শিক্ষিকা উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করান।

ভুক্তোভোগী প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা বীনা জানান, “হঠাৎ করে হামিদুর রহমান অফিস কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে আমার ওপর এলোপাথারি হামলা চালিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে জখম করে দেয়।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরুণা রায় জানান, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ট্রিবিউনকে জানান, ঘটনাটি সত্য এবং মূল অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়াও চলছে।