• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০১ রাত

‘গলাকাটা’ গুজবের সুযোগ নিয়ে শ্বশুরকে হত্যা!

  • প্রকাশিত ০৪:০৮ বিকেল আগস্ট ৩০, ২০১৯
জামালপুর হত্যাকাণ্ড
জামালপুরে শ্বশুড়কে হত্যার দায়ে গ্রেফতার যুবক ঢাকা ট্রিবিউন

হত্যাকাণ্ডকে ‘গলাকাটা’ গুজবের বলি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মরদেহের গলা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় হত্যাকারীরা

জামালপুরের ইসলামপুর থেকে শরীরবিহীন মাথা ও মেলান্দহ উপজেলা থেকে মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধারের পর উপজেলার গোয়ালের চর ইউনিয়নের সভুকুড়া গ্রামের হাসেন আলী (৫০) হত্যা রহস্যের উন্মোচন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট সকালে মেলান্দহ থানা পুলিশ কাঙ্গালকুর্শা গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে মস্তকবিহীন একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে ইসলামপুর থানা পুলিশ মরদেহের মাথা খুঁজতে থাকে।

ওইদিন দুপুরেই ইসলামপুর পলবান্ধা ইউনিয়নের চরচাড়িয়া ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম পাড়ে ভাসমান অবস্থায় একটি শরীরবিহীন মাথা পাওয়া যায়।

পৃথক দুইটি জায়গায় মস্তকবিহীন শরীর ও শরীরবিহীন মাথা খুঁজে পাওয়ার পর গোয়ালের চর ইউনিযনের সভুকুড়া গ্রামের মো. সুন্দর আলী মরদেহটিকে তার বাবা হাসেন আলীর বলে শনাক্ত করেন। ওইদিনই বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

ইসলামপুর সাকের্লের এএসপি সুমন মিয়া সাংবাদিকদের জানান, জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন নির্দেশে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মামলার আসামি আব্দুল হালিম (৩৫), লাল চান ও হাফেজ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৭ আগস্ট গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি নিহত হাসেন আলীর মেয়ের জামাই খোরশেদ আলম (২৪)-কে।

জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, কিছুদিন আগে শ্বশুর হাসেন আলীর সঙ্গে তুচ্ছ কারণে ঝগড়া হয় খোরশেদ, তার চাচা ও চাচাতো ভাইদের। এই ঝগড়াকে কেন্দ্র করে আদালতে মেয়ের জামাই ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে এবং যৌতুকের জন্য মেয়েকে মারধরের খোরশেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা করেন। এ কারণে তাদের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়।

এর জের ধরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার বিবরণে সে জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে মীমাংসার কথা বলে হাসেন আলীকে স্থানীয় একটি মসজিদের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে কালক্ষেপণ করে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাকে ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীরে কাশবনের জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে অপেক্ষমান খোরশেদ এবং হালিমের কয়েকজন সহযোগী তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে হাত চেপে ধরে মাথার ওপর ছালা পেঁচিয়ে মুখ ঢেকে ফেলা হয়। গলাটিপে হত্যার পর মরদেহ নৌকায় তুলে মাঝনদীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ হত্যাকাণ্ডকে ‘গলাকাটা’ গুজবের বলি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মরদেহের গলা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় হত্যাকারীরা। সঙ্গে থাকা বটি দিয়ে খোরশেদ নিজেই শ্বশুরের গলা কেটে নদীর দুই জায়গায় মাথা ও দেহ ফেলে দেয়।

বুধবার (২৮ আগস্ট) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি খোরশেদ। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা নৌকাটি ব্রহ্মপুত্র নদের তলে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করেছে।