• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩২ রাত

বাল্যবিবাহ বন্ধ করে কিশোরীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

  • প্রকাশিত ০৮:৩২ রাত আগস্ট ৩০, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ

সেখানে গিয়ে ইউএনও জানতে পারেন যে এমনকি ছেলেটিরও বিয়ের বয়স হয়নি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে আকলিমা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরী। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরে ঐ স্কুল ছাত্রীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের গাঙ্গুলী বাড়ি এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে আকলিমা আক্তারের সাথে একই এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে রমজান হোসেনকে (১৮) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন দুই পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিয়ের দিন ধার্য করা হয়।  

এদিকে বিয়ের খবর পেয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল ও ফতুল্লা থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে ছেলে ও মেয়ের বাড়িতে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন শুধু মেয়েটিই নয়, এমনকি যে ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে তারও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করার বয়স হয়নি।

পরে তিনি দুই পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের কুফলগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন। এসময় ছেলে-মেয়ের পূর্ণ বয়স হওয়ার আগে বিয়ে না দিতে দুই পরিবারকে সতর্ক করেন এবং মেয়েটির পরিবার অতিদরিদ্র হওয়ার কারণে তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন ইউএনও।

নাহিদা বারিক ঢাকা ট্রিবিউনকে এ প্রসঙ্গে বলেন, "মেয়ের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। মেয়ের বাবা অটোরিকশা চালক আর মা বাসায় বসে সেলাই কাজ করেন। অর্থাভাবে কিশোরীর পড়াশোনা বন্ধ। তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি কিশোরীর লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এছাড়াও মেয়ের মা জোবেদা বেগমকে একটি সেলাই মেশিন ও মেয়েটির পরিবারকে সরকার কর্তৃক বরাদ্দ হিসেবে প্রতি মাসে ৩ কেজি করে চাল দেয়া হবে।"